প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
মোবাইলের সর্বনাশের ফাঁদ: অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ
সংবাদ দিগন্ত ||
রাজধানীসহ সারাদেশে নীরবে বিস্তার ঘটছে অনলাইন জুয়ার। মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘অল্প সময়ে বেশি লাভ’-এর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই ফাঁদে বেশি পড়ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। রিকশাচালক, গার্মেন্টকর্মী, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—যাদের প্রতিদিনের আয়ে সংসার চলে, তারাই ঝুঁকছেন দ্রুত আয়ের আশায়।বাস্তবে এই ‘সহজ লাভের’ স্বপ্নই পরিণত হচ্ছে দুঃস্বপ্নে। প্রথমদিকে কিছু লাভ দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের আসক্ত করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে হারতে থাকে তারা। হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় বারবার বাজি ধরতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন সব সঞ্চয়।মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি একটি মানসিক ফাঁদ—‘গ্যাম্বলার্স ফ্যালাসি’। এই বিশ্বাসই তাকে আরও গভীরভাবে জুয়ার দিকে টেনে নেয়।সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক অ্যাপ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথমে ব্যবহারকারীকে জেতায়। পরে অ্যালগরিদম এমনভাবে সাজানো থাকে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীর ক্ষতি নিশ্চিত হয়।আর ও পড়ুন , সন্ধ্যার মধ্যে পাঁচ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেতআইন অনুযায়ী দেশে জুয়া নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে লেনদেন সহজ হওয়ায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন এজেন্ট নম্বর ব্যবহার করে জুয়ার অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে, যা শনাক্ত করা জটিল।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাইবার ইউনিটের মাধ্যমে জুয়ার সাইট শনাক্ত করে বন্ধ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া এখন শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়—এটি একটি বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, ঋণের বোঝা বাড়ছে, এবং নতুন করে অপরাধ প্রবণতাও বাড়তে পারে।তাই এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—কঠোর আইন প্রয়োগ, ব্যাপক সচেতনতা এবং আসক্তদের জন্য মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত