প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জে পানির ওঠানামা, হাওরে ডুবছে বোরোধান
সরকার রফিকুল ইসলাম আরমান, , কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : ||
উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানিতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক ওঠানামা। শনিবার দিনভর বৃষ্টি থাকলেও রোববার আকাশে বৃষ্টি না থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মেঘলা আবহাওয়ায় কাটছে না কৃষকের উদ্বেগ। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের পাকা বোরোধান ডুবে যাওয়ার শঙ্কা এখনো তীব্র।রোববার (৩ মে) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়—ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১৬ মিটারে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি। একইভাবে চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২.৭৮ মিটার, বেড়েছে ৫ সেন্টিমিটার। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে জেলার অন্য প্রান্তে। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি কমে ২.৪০ মিটারে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার কম। ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানিও কমে হয়েছে ১.৭৭ মিটার, কমেছে ৩ সেন্টিমিটার।আরও পড়ুন, শ্রীপুরে প্রবাসীর ভবন দখলের অভিযোগ, ভাই-বউয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনপানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১০ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও উজানের পানি প্রবাহ ও সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে দ্রুত পরিবর্তন করতে পারে। এদিকে জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এই অস্থিরতা হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ইতোমধ্যে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকেই খলায় ধান শুকাতে পারছেন না টানা বৃষ্টির কারণে। ফলে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ধানে চারা গজানোর ঘটনাও ঘটছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির বার্তা দিচ্ছে। কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।আরও পড়ুন, মহেশপুরে নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি, যুবক আটকঅন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। সব মিলিয়ে, পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও প্রকৃতির অনিশ্চয়তায় হাওরাঞ্চলের কৃষকদের চোখে-মুখে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ। সামনে যদি আবার বৃষ্টি বাড়ে বা উজানের ঢল জোরালো হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো অঞ্চলে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত