প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সার সংকটের শঙ্কা : খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা
সংবাদ দিগন্ত ||
ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু ভূরাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। সার ও এর কাঁচামাল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।বিশ্বের অন্যতম বড় সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ারার প্রধান নির্বাহী সভেইন টোরে হোলসেথার সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের খাদ্য জোগান ব্যাহত হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ইতোমধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে গেছে।আরো পড়ুন , মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ইসরায়েলে ৬,৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম পাঠাল যুক্তরাষ্ট্রনাইট্রোজেন সার সংকট সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অভাবে প্রথম মৌসুমেই ফসলের ফলন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার ধান উৎপাদনে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।ইয়ারা প্রধান আরও সতর্ক করেছেন, খাদ্য সংকট বাড়লে বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে বৈষম্য আরও প্রকট হবে। ধনী দেশগুলো উচ্চ দামে খাদ্য কিনে নিতে পারলেও দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়বে।জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।এদিকে সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত