প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধ আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে ৩% পর্যন্ত পতন
ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে গেছে। মঙ্গলবার, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর কারণ হলো হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৫২ ডলার কমে ৯৮.২৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, টেক্সাসভিত্তিক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩.০৬ ডলার কমে ৯৬.০২ ডলারে নেমে এসেছে।এর আগে, সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল। গত মাসে, তেলের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। আইইএ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার কারণে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেল সরবরাহ বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। শুধু মার্চ মাসেই বিশ্ববাজার থেকে দৈনিক ১০.১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গেছে।আরও পড়ুন, ইসরায়েলকে লেবানন সংঘাত বন্ধ করে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জার্মানিরসংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও তেলের বাজারে চাপ কমাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় সরবরাহ স্বাভাবিক করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের অবরোধ এখন হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরু হওয়ার পর অন্তত দুটি জাহাজ প্রণালি থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান গালফ অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে।সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইসলামাবাদ থেকে আশার বার্তা মিলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল আবার পাকিস্তানে বৈঠকে বসতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে তেলের দাম আবারও গত মার্চের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেলের মজুত যেভাবে কমছে, তার প্রভাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এবং তার পরেও স্থায়ী হতে পারে।আরও পড়ুন, আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি, ২৫০ জনের বেশি নিখোঁজআইইএ তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা দৈনিক ৮০ হাজার ব্যারেল কমতে পারে এবং সরবরাহ দৈনিক ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া কৃষ্ণসাগরের তুয়াপসে বন্দর দিয়ে এপ্রিল মাসে তেল রপ্তানি ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে ১.২৭ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত