প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
শ্রীমঙ্গলে ফুটেছে বিরল নাগলিঙ্গম ফুল, মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা
ডেস্ক ||
বসন্ত প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তবু দক্ষিণা হাওয়া বেশ জোরে বইছে! কচি পাতা আর কোকিলের ডাকে জেগে উঠেছে বাংলার প্রকৃতি।বাংলার প্রকৃতি নানা রঙের বর্ণিলতায় সেজে উঠেছে। বসন্তের এমন রঙিন মেজাজের সঙ্গেই প্রকৃতিতে ফুলের মেলা বসেছে। বড় গাছে সুন্দর গোলাপি-হলুদ রঙের এক ফুল ফুটেছে। গাছের তলায় দাঁড়ালে একধরনের সুন্দর গন্ধ পাওয়া যায়। মন ভালো হয়ে যায়—সেই গন্ধের রহস্য বের করার জন্য!গাছটায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এই মিষ্টি পুষ্পশোভা। ফুলগুলো বড় ও রঙিন। এই ফুলের সৌন্দর্য চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ফুলের ভিতর দেখতে সাপের ফণার মতো। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন ফণা তুলে আছে সাপ! এই ফুলগুলোয় বসা মৌমাছিদের গুঞ্জন বেশ ভালো লাগে। এই বিশেষ ফুলটির নাম ‘নাগলিঙ্গম’। এর লাল পাপড়ির মাঝখানটা সাপের মতো দেখতে বলে এর এরকম নাম। নাগলিঙ্গম গ্রীষ্মের ফুল। বসন্তের শেষ থেকে ফুটতে শুরু করে। শরৎ পর্যন্ত ফোটে।আরও পড়ুন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হার্ট ও ত্বকের যত্নে পেস্তার অবদানশ্রীমঙ্গলের চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে এই ফুল ফুটে আছে। ফুল ফোটার পর গাছটিতে বড় গোলাকার ফল হয়। সেই ফল দেখতে কামানের গোলার মতো। ইংরেজিতে এর নাম ‘ক্যানন বল’। নাগলিঙ্গম দৃষ্টি কাড়ে তার ফুলের সৌন্দর্যের কারণে। উদ্ভিদবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা তার ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন, ‘আপনি বর্ণে, গন্ধে, বিন্যাসে অবশ্যই মুগ্ধ হবেন। এমন ভোরের একটি অভিজ্ঞতা অনেক দিন মনে থাকবে।’বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. আব্দুল আজিজ বলেন, নাগলিঙ্গম একটি বিরল বৃক্ষ। এর ইংরেজি নাম ‘Cannonball Tree’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis. এর আদি নিবাস আমাজন ও মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। নাগলিঙ্গম ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর পাতা খুব লম্বা হয়। নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা। আরও পড়ুন, ইন্ডাকশন চুলার বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সহজ টিপসহিন্দু ও বৌদ্ধ উপাসনালয়গুলোতে পবিত্র বৃক্ষ মনে করে রোপণ করা হয় নাগলিঙ্গম। গাছের গুঁড়ি থেকে বের হওয়া দড়ির মতো এক ধরনের দণ্ডে ফোটে ফুল। ফুলের আকার বেশ বড়। ফুলের পাপড়ি মোটা। লাল, গোলাপি ও হলুদের মিশ্রণ নাগলিঙ্গমকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। মার্চ মাসে ফুল ফোটা শুরু হয়। গাছের কাণ্ড ও ডাল থেকে ঝুলন্ত লম্বা লম্বা ডাঁটায় কয়েকটি ফুল ফোটে বছরে কয়েকবার। হালকা গোলাপি-হলুদে মিশ্র রঙের পুংকেশরের একগুচ্ছ ক্ষুদে পাপড়ি।আরও পড়ুন, শজনের সময় লাজনা খাওয়ার সহজভাবে চেনার কৌশলড. আজিজ আরও বলেন, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ আল হোসেন গাছটির চারা রোপণ করেছিলেন। এই ফুলের ঔষধিগুণও রয়েছে। এর ফুল, পাতা ও বাকল থেকে তৈরি ওষুধ নানা ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ড. আজিজ বলেন, বাংলার প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া বিরল বৃক্ষগুলো সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত