প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: হরমুজ খুলতেই কমছে তেলের দাম, স্বস্তির আশা বাংলাদেশে
ডেস্ক ||
পাকিস্তানের সাহায্যে যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। এর ফলে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বন্ধ হবে। এই চুক্তির কারণে ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়েছে। ফলে দেশের জ্বালানি তেলের আতঙ্ক কমবে এবং নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।তারা বলছেন, এই খবরে ভালো প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। যার ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে যাত্রা শুরু করেছে।যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতির পর জাহাজটি নোঙর তুলে গন্তব্যের পথে অগ্রসর হয়েছে।আরও পড়ুন, সরকার আস্থা অর্জন করেছে, তবে হুমকি-ধমকির স্থান নেই: রাষ্ট্রদূত আনসারীআন্তর্জাতিক বাজারে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। শেয়ারবাজারের সূচকে উত্থান হয়েছে।বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৫ শতাংশ কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৫.৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৩০ সেন্টে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ১৬.৫ শতাংশ কমে ৯৩ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। একসময় তা ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে উঠে যায়।যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বেড়ে যায় জ্বালানি ব্যয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, আমরা দেখেছি যখন মনে হচ্ছিল যুদ্ধ চলতে থাকবে, তখন ক্রুড অয়েলের দাম কীভাবে বাড়ছিল। এখন যুদ্ধবিরতির খবরে দ্রুতই দাম কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়বে। বিশেষ করে আতঙ্কিত জনগণ এবার হয়তো কিছুটা আশ্বস্ত হবে। এলএনজি ও তেল আমদানির ক্ষেত্রে শিপিং খরচ কমবে। কমবে ইন্সুরেন্স খরচও।যুদ্ধ বন্ধের কারণে ঝুঁকি কমে গেল। তবে ডিজেলের বাজার এখনো দাম কমেনি। সুতরাং সরকারকে বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। ভারত থেকে ডিজেল আসা শুরু হয়েছে। কাজাখস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশের কথা চিন্তা করা যেতে পারে, যাদের কাছ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজেল কেনা সম্ভব। কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির কয়েকটি এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে যে ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলছেন, তাদের কার্যক্রম শুরু হতে সময় লাগবে।আরও পড়ুন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবারবাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা বলেন, ক্রমাগত বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পরও দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায়নি সরকার। অসাধু মহলের ধারণা ছিল যুদ্ধ চলতে থাকবে এবং সরকার ভর্তুকি না বাড়িয়ে দাম বাড়াতে বাধ্য হবে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। এখন তাদের পক্ষে আর মজুত করা তেল ধরে রাখা সম্ভব হবে না। বিশ্ব বাজারেই দাম নিম্নমুখী। তাই দেশের বাজারে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি সম্পর্কিত যে চুক্তি রয়েছে, সে অনুযায়ী পণ্য আসতে আর কোনো বাধা রইল না। ফলে আপাতত জ্বালানি নিয়ে জনমনে আর কোনো আতঙ্ক থাকবে না। আমদানি রপ্তানি সম্পর্কিত অনিশ্চয়তাও কেটে গেছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ আর কোনো কারসাজি না থাকলে দ্রব্যমূল্যও আপাতত স্থিতিশীল থাকবে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব মীর আহসান পারভেজ বলেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় জ্বালানি তেল মজুত করার প্রবণতা কমবে এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক কমবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। গত বছর মার্চে আমরা যে পরিমাণ তেল ডিপো থেকে নিয়েছিলাম, এবার ১৫ দিনেই সেই পরিমাণ তেল নিয়েছি। সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। সংকট অনেকটাই কৃত্রিম। যুদ্ধবিরতির খবরে প্রশাসনে শিথিলতা এড়াতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি অপরিহার্য।আরও পড়ুন, তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি সংসদেপাকিস্তানের সাহায্যে যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। এর মাধ্যমে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের অবসান আশা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সময় শেষ হওয়ার আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানালেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত