প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরায় হোটেল গ্রান্ট প্লাজা’র আড়ালে নারী সিন্ডিকেটের অভিযোগ
সংবাদ দিগন্ত: ||
রাজধানীর উত্তরার পশ্চিম থানাধীন একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত হোটেল গ্রান্ট প্লাজা নামেই যেন আধুনিকতার ছাপ, কিন্তু অভিযোগের ভারে এখন তা প্রশ্নবিদ্ধ| স্থানীয়দের দাবি, এই হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ নারী সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে, যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে হোটেলের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে| বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও রহস্যজনকভাবে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি|স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং কিছু সচেতন নাগরিকদের ভাষ্যমতে, হোটেল গ্রান্ট প্লাজা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে| অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের নির্দিষ্ট কিছু কক্ষ নিয়মিতভাবে ভাড়া দেওয়া হয় এমন উদ্দেশ্যে, যা সাধারণ আবাসিক ব্যবস্থার বাইরে| এখানে আসা-যাওয়া করা ব্যক্তিদের আচরণ, সময়সূচি এবং গোপনীয়তার মাত্রা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে|আরো পড়ুন: যাত্রাবাড়ি হোটেলপাড়া স্বৈরাচারী আ.লীগের দাপট: অভিযোগের পাহাড়একজন স্থানীয় দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের ভেতরে অচেনা মানুষের আনাগোনা বাড়ে| অনেক সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক বা সন্দেহজনক বয়সী মেয়েদেরও দেখা যায়, যা স্বাভাবিক নয়| সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে নারীদের ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে| অভিযোগ রয়েছে, কিছু নারীকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে বা চাপ প্রয়োগ করে এই কাজে যুক্ত করা হয়| এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পরিচালনায় হোটেলটি একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ধারণা করছেন অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা|একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক জানান, আমরা তথ্য পেয়েছি যে একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক এই হোটেলকে কেন্দ্র করে কাজ করছে| তাদের মধ্যে যোগাযোগ, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত সংগঠিত| এর আগেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে হোটেল গ্রান্ট প্লাজার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে| সেসব প্রতিবেদনে একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসে নারী পাচার, দেহব্যবসা এবং অবৈধ লেনদেন| প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই হোটেলটির মালিকপক্ষ কিছুদিনের জন্য আড়ালে চলে যায় বলে জানা যায়|আরো পড়ুন: রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে ফর্টিস গ্রুপের অবৈধ ব্যবসা , পর্ব -৪সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হোটেলটির কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের রক্ষা করে আসছে এমন অভিযোগও রয়েছে| ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে হোটেল মালিকদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অনেক সময় সীমিত হয়ে পড়ে| এখানে অভিযোগ করলে লাভ হয় না| তারা অনেক প্রভাবশালী| পুলিশও অনেক সময় চুপ থাকে|এই বিষয়ে হোটেল গ্রান্ট প্লাজার মালিক বা ম্যানেজার সোহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি| ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়, এবং সরাসরি হোটেলে গিয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি|আরো পড়ুন: কিশোর অপরাধে ১৬-১৮ বছরেই জড়াচ্ছে হত্যা-ধর্ষণেএবিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা জানান, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে| তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি| একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি| যদি কোনো অবৈধ কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে| এ ধরনের কার্যক্রম শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, বরং সমাজের ˆনতিক কাঠামোর জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়| বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা|একজন সমাজকর্মী বলেন, এই ধরনের সিন্ডিকেট সমাজের ভিত নষ্ট করে দেয়| এটি শুধু একটি হোটেলের সমস্যা নয়, বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক সংকটের অংশ| সাংবাদিক সমাজ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য| একই সঙ্গে, যারা এই ধরনের সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে|আরো পড়ুন: জরিমানার-সিলগালার পরও থেমে নেই শাহীনের ‘ভেজাল ঘি'র সাম্রাজ্য’ নীরব ভুমিকায় প্রশাসনহোটেল গ্রান্ট প্লাজা ঘিরে ওঠা এই অভিযোগগুলো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি সম্ভাব্য অপরাধ চক্রের ইঙ্গিত বহন করে| বারবার প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এটি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে| এখন দেখার বিষয় প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এই অভিযোগগুলোর তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করতে পারে| জনমনে যে প্রশ্নগুলো ˆতরি হয়েছে, তার উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই|
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত