প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
ঈশ্বরদী থানার ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ
মোঃ মাহফুজুর রহমান, , ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: ||
পাবনার ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থ ছাড়া মেলে কোন সেবা। থানায় মামলা করতে গেলে গুনতে হয় টাকা, এমনকি আসামীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে উল্টো হয়রানি করা হয় ভুক্তভোগীদের। সম্প্রতি তালা ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের মত গুরুতর অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক নারী। তবে মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অভিযুক্ত ওসি মনিরুজ্জামান।আর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশ সুপারের। পাবনার ঈশ্বরদী পৌরসভার নূর মহল্লা বস্তিপাড়া এলাকার আসাদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম। গত মঙ্গলবার (২৪মার্চ) স্বপরিবারে গ্রামের বাড়ি নাটোরের লালপুর বেড়াতে যান৷ অভিযোগ উঠেছে, পরদিন বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামানের নির্দেশে তার স্বামী আসাদুলকে খুজতে তার বাড়িতে যান ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি পুলিশের দল৷ঘরটি তালাবদ্ধ থাকায় তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পুলিশ সদস্যরা। আসামী না পেয়ে ঘড়ে খোঁজাখুঁজি করে বাড়িতে থাকা দুটি কানের দুল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা৷ পরে প্রতিকার চেয়ে ওসি মমিনুজ্জামানের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী লিপি বেগম। আরও পড়ুন, মঠবাড়িয়ায় তেল মজুতের অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও কারাদণ্ডশুধু একটি পরিবার নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে তদন্ত ছাড়াই মামলা এন্ট্রি করা সহ অপরাধীদের থেকে টাকা নিয়ে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হয়রানীর অভিযোগও ওসির বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গাড়ি চালক বলেন, ঈশ্বরদীতে প্রায় অর্ধশতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটায় অবৈধভাবে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সকল গাড়ি থেকেও নিয়মিত চাঁদা নিয়ে থাকেন এই ওসি। এছাড়া বালুরঘাট সহ কৃষি জমি খনন করে পুকুর কাটা এমনকি মামলা প্রতি টাকা দিতে হয় ওসিকে। টাকা না দিলে বিপরীতে অবস্থান নেন তিনি। আরও পড়ুন, মোরেলগঞ্জে সংঘর্ষ, আহত-৫এবিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি অভিযুক্ত ওসি মো: মমিনুজ্জামান । যদিও নিজের ভূলগুলোর আইনগত ব্যাখ্যা দেন তিনি। তিনি থানা থেকে একটি আইনের বই বের করে বলেন, আসামীকে বাড়ি ভেঙে ধরার যথাযথ নিয়ম রয়েছে। আর টাকা নিয়ে তিনি কোনো কাজ করেন না। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে পাবনা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ইতিমধ্যে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত