প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
চন্দনাইশে ডায়রিয়ার প্রকোপ, এক সপ্তাহে ৬৬ রোগী হাসপাতালে
মোঃ সবুজ মৃধা, , চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ||
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই শিশু রোগী, যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।হাসপাতালে এ্যান্টিবায়োটিক, ডিএনএস স্যালাইন ও খাবার স্যালাইনের তেমন সংকট না থাকলেও ৩১ শয্যার অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। হাসপাতালের শয্যা খালি না থাকায় নতুন ভর্তি রোগীদের অনেককেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।আরও পড়ুন, নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেনএছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার ফলে পানিবাহিত জীবাণুর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়াও ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গরম বাড়লে পানির উৎসে জীবাণুর সংক্রমণও বৃদ্ধি পায়, যা ডায়রিয়া ছড়াতে সহায়তা করে। রাস্তাঘাটের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও নিরাপদ পানির অভাবও এর অন্যতম কারণ। অনেকেই বাইরের অনিরাপদ পানি বা শরবত পান করছেন এবং শিশুদেরও দিচ্ছেন। বর্তমানে ডায়রিয়ার ধরনেও কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ডায়রিয়ার সঙ্গে জ্বরও থাকছে। ফলে রোগীর সুস্থ হতে সময় বেশি লাগছে। আগে যেখানে দুই দিনে রোগী সুস্থ হতো, এখন চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগছে। এতে চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত দোহাজারী হাসপাতাল থেকে কোনো রোগীকে রেফার করা লাগেনি এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। ডায়রিয়া আক্রান্তদের মাধ্যমে অন্য রোগীরা যাতে আক্রান্ত না হন, সে জন্য তাদের জন্য আলাদা ডায়রিয়া ব্লক চালু করা হয়েছে।”আরও পড়ুন, মহেশপুরের ভৈরবা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এখন দালালদের দখলেচন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, বর্তমানে চন্দনাইশে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ রয়েছে। দোহাজারী হাসপাতালে আগামী ১ এপ্রিল নতুন দুইজন চিকিৎসক যোগদান করবেন। আমরা জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি পান করা, নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা এবং খাবারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। সকলের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত