প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
পর্যটকের ক্ষোভের মুখে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদল
মোঃ মাহফুজুর রহমান,, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : ||
প্রমত্মা পদ্মা নদীর দূষণ মুক্ত করতে গিয়ে নিজেরাই ক্ষোভের মুখে পড়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের প্লাষ্টিক বর্জ্য ও অপচশীল নানা দ্রব্যাদি নদী পাড়ে জমে থাকায় তা পরিবেশ নষ্ট করছে। সেই বর্জ্য পরিষ্কার করতে উদ্যোগ নেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমানের একঝাঁক নেতাকর্মী। কিন্তু নদী পাড় থেকে সংগ্রহ করা সেই বর্জ্য নিষ্কাশন না করে নদীপারেই স্তূপ করে ফেলে রাখায় পর্যটকদের সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন তারা। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন পর্যটন ও অত্রাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা।মঙ্গলবার (৩০ মার্চ ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈশ্বরদীস্থ পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জব্রীজ এলাকার আশপাশের বেশ কিছু জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রয়েছে। স্থানীয় অস্থায়ী দোকানদাররা জানান, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া এই আবর্জনা পরিষ্কার করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা। উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় দর্শনার্থীরা পাকশি হার্ডিঞ্জব্রীজ, লালনশাহ্ সেতু, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পাকশী ষ্টেশনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে প্রতিনিয়তই পরিবার প্রিয়জন নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন দর্শনার্থীরা। ছাত্রদলের এমন পরিচ্ছন্নতা মূখী কর্মকান্ড মূহুর্তেই নজর কাড়েন পর্যটকদের। কিন্তু নদী পাড়ের সেই আবর্জনা সেখানেই স্তূপ করে রাখায় সেই প্রসংশা বিশাদে রুপ নিয়েছে। পর্যটন এলাকায় এমন ময়লার ভাগার তৈরী করায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।আরও পড়ুন, কুমিল্লার বরুড়ায় পারিবারিক কলহে ছেলে বাবাকে কুপিয়ে হত্যাস্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষথেকে এই পর্যটন এলাকায় আবর্জনা স্তূপ করে রাখার জন্যে এখানে মশা মাছির উপদ্রব বেড়েছে। ফলস্রুতিতে এখানকার পরিবেশ নোংড়া হয়ে উঠেছে। স্তুপকৃত ময়লার ভাগার থেকে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরী করছে। বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী সুস্মিতা বলেন, নদী পাড়ের ময়লা কুড়িয়ে সেটা পর্যটন এলাকায় স্তুপ করে না রেখে সেগুলো যদি পুড়িয়ে দিত তাহলে সেটা হতো প্রকৃত কাজ। ছাত্রদল এখানে যেটা করেছে সেটা কেবলই লোক দেখানো আর নিজেদের জাহির করার জন্য।তাদের মূল লক্ষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কখনই ছিলোনা বলেই আমার বিশ্বাস।পরিবার নিয়ে ঘুড়তে আসা মো: সাগর ইসলাম বলেন, ঈশ্বরদীর একমাত্র পর্যটন এলাকা বলতে গেলে পাকশী এলাকার এই হার্ডিঞ্জব্রীজ বা জোড়া সেতু এলাকাকেই আমরা বুঝি। এই এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কখনই কেউ ভাবেনি। ছাত্রদলের এই পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগে আমরা ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। তবে পরক্ষনেই আমাদের ভীষণ খারাপ লেগেছে। কেননা তারা সামান্য কিছু অংশের আবর্জনা কুড়িয়ে সেগুলোকে পাশেই স্তূপ করে রেখে চলে গেছে। এতে করে এ এলাকার পরিবেশ আরও নোংড়া ও দূষিত হয়েছে। আরও পড়ুন, চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ডের নিতে গিয়ে স্ট্রোক করে এনজিও কর্মীর মৃত্যুঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম শাওন বলেন, ছাত্রদল সর্বদা আলোকিত সমাজ গড়তে কাজ করে। তবে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের একাংশ পদ্মানদী পাড়ে ময়লার যে স্তূপ করে রেখে ভেগে গেছে তারা আসলে প্রকৃত দল করে না। তারা তাদের প্রচারনার জন্য এখানে এসেছিলো মাত্র। প্রচার শেষ ময়লা ফেলে তারাও নিরুদ্দেশ। জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রস্তাবিত উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক হেদায়েতুল ইসলাম অনিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। তবে পরিবেশের ভালো করতে গিযে যারা খারাপ করেছে তারা আসলে ঠিক করেনি।আমরা উপজেলা যুবদলের পক্ষ থেকে স্তূপকৃত ময়লার ভাগার দ্রুত অপসারণের চেস্টা করব।জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুর কায়েস সুমন বলেন, ঈশ্বরদীর একমাত্র পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। ময়লা নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় আমরা নদী থেকে কুড়ানো আবর্জনা পাশেই একটি স্তূপ করে রেখে এসেছি।দর্শনার্থীদের ময়লা ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিনও সেখানে স্থাপন করেছি। উল্লেখ্য গত ২৭ ও ২৮ রমজান (১৭/১৮ মার্চ) ২ দিনব্যপী পাকশীস্থ পদ্মা নদীর পাড় দূষণ মুক্ত করতে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুর কায়েস সুমনের তত্বাবধানে উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা মিলে আবর্জনা অপসারনের কাজ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত