প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় মারা গেলেন মুজিব
নায়েম তালুকদার ||
এলাকার পরিচিত মানুষ ছিলেন মুজিবুর রহমান। ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। তার চার ভাইয়ের পরিবারের সবাই ইউরোপে থাকেন । তিনি দালালের মাধ্যমে যেতে চেয়েছিলেন ইউরোপ। যদিও পরিবারে নেই কোন অভাব । কিন্তু তার ইউরোপ যাওয়ার আশা স্বপ্ন হয়ে থেকে গেল। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় মারা গেলেন মুজিব৷ (২৭ মার্চ) রাতে গ্রিসের কোস্টগার্ডের দেওয়া বিবৃতিতে মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর খবর শোনার পর প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তিনি কেন বিদেশে যেতে চাইলেন, পরিবারে তো অর্থের অভাব ছিল না? তিনি বৈধভাবে ভিসা নিয়ে যেতে পারতেন, এভাবে যাওয়া উচিত হয়নি। প্রয়োজন ছিল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার।আরো পড়ুন , দেখা হলো না, ইউরোপের দেশ, দালালের খপ্পরে পরে সাগরে ছয়জনের মৃত্যুমুজিবুর রহমান সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের বাসিন্দা। তার এক সন্তান রয়েছে। অবৈধভাবে গ্রিস যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে তার মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক হয়েছেন পরিবার ও গ্রামের লোকজন।রনারচর গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ তালুকদার বলেন, ‘মুজিবুর রহমান ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকার পরিচিত মুখ ছিলেন। সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবে তারা সচ্ছল। কিন্তু অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে সাগরপথে বিদেশ যেতে গিয়ে সাগরে মৃত্যুর ঘটনায় সবাই অবাক হয়েছে। তিনি কেন বিদেশে যেতে চাইলেন। তাদের তো অর্থের অভাব ছিল না। তার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।’আরো পড়ুন , স্বাধীনতার পক্ষের স্লোগান দেয়া অপরাধ নয়: মোমিন মেহেদীমুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই লোকমান হোসেন বলেন, ‘মুজিবুরের বড় ভাই এমরান হোসেন দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকার পর বর্তমানে দেশে আছেন। তার বড় দুই ভাই একলিম হোসেন ও ফয়জুর রহমান ফ্রান্সে আছেন। তাদের অর্থের কোনো অভাব ছিল না। যদি তার বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনই ছিল তিনি বৈধভাবে ভিসা নিয়ে যেতে পারতেন। এভাবে যাওয়া উচিত হয়নি, এখন তার বাড়িতে থাকার লোকই নাই।’মুজিবুর রহমানের বড় বোনের জামাই মুক্তির পাশা বলেন, ‘তার বড় দুই ভাই ইউরোপে থাকেন, তাই সেও ইউরোপ যাওয়ার জন্য উদ্গীব ছিল। পরিবার থেকে তাকে বারবার নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সবাই বাড়ির বাহিরে থাকে বাড়িতে থাকার মতো কেউ নাই। কিন্তু সবার বাধা উপেক্ষা করে হঠাৎ করে সৌদি আরব গিয়ে জানান তিনি ইউরোপ যাচ্ছেন। এরপর আমরা গতকাল খবর পাই তিনি সাগরে মারা গেছেন। ইউরোপ যাওয়ার ইচ্ছাই তার জন্য কাল হয়েছে।’মুজিবুর রহমানের বড় ভাই লন্ডন ফেরত এমরান হোসেন বলেন, ‘আমি বেশ কয়েক বছর লন্ডনে থাকার পর এখন দেশেই (সিলেট) থাকি। আমার দুই ভাই ও আমার দুই ছেলে বিদেশে থাকে। মুজিবুর কাউকে স্পষ্টভাবে কিছু না জানিয়ে বিদেশে চলে যায়। একদিন ফোন করে বলে সৌদি আরবে আছে। গতকাল হঠাৎ করে খবর পাই আমার ভাই আর নাই। তার এমন মৃত্যুর খবরে আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তার কী দরকার ছিল বিদেশ যাওয়ার।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত