প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
লামায় কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও জমি দখল, থানায় লিখিত অভিযোগ
ডেস্ক ||
লামা থানার প্রধান সড়কের পার্শ্বে গত ১৪ মার্চ বিকাল আনুমানিক ৩টায় ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্থানীয় মহিলা মোরশেদা বেগম মুন্নি (৪০) তার পৈত্রিক জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সরাসরি থানায় দুটি ব্যক্তি—মোহাম্মদ সামশুল আলম ও রফিকুল ইসলাম মিনু—বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।মোরশেদা বেগম মুন্নি জানিয়েছেন, তার মৃত পিতার নামে থাকা ৫ একর জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, উভয় বিবাদী তাকে হুমকি ও ভয়ভীতিতে ফেলে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১নং বিবাদী মোহাম্মদ সামশুল আলম একজন সরকারি কলেজ শিক্ষক। সরকারি পদবীর প্রভাব ব্যবহার করে তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি ঝিরির গতিপথ রোধ করে তিন তলা বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যা বর্ষার মৌসুমে এলাকার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।আরও পড়ুন, পলাশবাড়ী সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে দুঃস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণঅপর দিকে, ২নং বিবাদী রফিকুল ইসলাম মিনু অভিযোগ করেছেন, তিনি মাদক বা কলেজের নামে জাল কাগজ ব্যবহার করে নিজেকে বৈধ কেয়ারটেকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে মোরশেদা বেগম মুন্নির জমি দখলের উদ্দেশ্যে ১নং বিবাদীর সঙ্গে যোগসাজশ করেছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মোরশেদা বেগম মুন্নি জমি পুনঃপরিমাপ করিয়েছেন এবং সহকারী কমিশনার ভূমি কর্তৃক অনুমোদিত রিপোর্ট সংযুক্ত করেছেন। তবুও উভয় বিবাদী হুমকিতে লিপ্ত।অভিযোগে বলা হয়েছে, ২নং বিবাদী তাকে জবরদস্তি তাড়ানোর চেষ্টা করেছেন এবং পূর্ববর্তী আদালতের জিডি নং ১০১১/২৩-১২-২৫ অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করেছেন। ১৪ মার্চ বিকাল ৩টায় থানার সামনে উভয় বিবাদী অভিযোগকারীর এবং তার ভাগিনার ওপর মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন, ুএমন ঘটনা নীরবভাবে চলতে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে এবং আইন-শৃঙ্খলা ঝুঁকিতে পড়বে।”সরকারি পদবীর প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগঅভিযোগে আরও বলা হয়েছে:১নং বিবাদী ও তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম মিনু মিলে মোরশেদা বেগম মুন্নির পৈত্রিক জমি কলেজের নামে গ্রাস করার চেষ্টা করছেন। ১নং বিবাদী ২নং বিবাদীকে কেয়ারটেকার হিসেবে বৈধতা প্রদানের জন্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জ্বাল করে নিয়োগপত্র প্রস্তুত করেছেন।অভিযোগকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ১০৮০-৮১ সালের বন্দোবস্তের জমিতে এতদিন পরে হঠাৎ কেয়ারটেকার নিয়োগ হলো, এবং কেন পূর্ববর্তী কোন কলেজ প্রতিনিধি সরাসরি তাদের নিকট আসেননি।আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় সম্প্রীতির বার্তা এমপি রায়হান সিরাজীর, শ্মশান উন্নয়নে আশ্বাস১০/০২/২০২৬ তারিখে জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংশার জন্য ১নং বিবাদী অভিযোগকর্তাকে হুমকি দিয়ে তার বাড়িতে ডেকে আনে। সেখানে তিনি অভিযোগকর্তাকে বলেন, ুতোরে সরকারি মামলায় ফাঁসিয়ে সারাজীবন জেল খাটাবো।” এরপর বর্ষার মৌসুমে খামারবাড়ী নির্মাণের জন্য জমিতে গেলে উভয় বিবাদী অভিযোগকর্তার উপর চড়াও হন এবং থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।লামা থানার অফিসার শাকিল সাহেব জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন। আগামী ২৭ মার্চ ইউএনও মহোদয়ের নিকট শরনাপন্ন হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, বৈধ ওয়ারিশের জমি দখল ও ভয়ভীতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি পদবী ব্যবহার করে এমন অনিয়ম ও ভয়ভীতি চলতে দিলে সাধারণ মানুষ আর নিরাপদ থাকবে না। আইনের শাসন যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত