প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
আপেল মাহমুদকে ঘিরে সংবাদ নিয়ে প্রশ্ন, ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার
সংবাদ দিগন্ত: ||
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদে ট্যুরিস্ট পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হলেও, পরে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। পাশাপাশি স্থানীয়দের একটি অংশও এটিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। তবে যুগান্তরের বদলি ও তদন্ত কমিটির বিষয়টি এডিটিং করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি (সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ) আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুবদল নেতাকে শেষ করতে ১০০ কোটি টাকা খরচের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনাটি সম্পূর্ন মিথ্যা তবে এই প্রতিবেদনের পরপরই বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে ও আপেল মাহমুদকে ফাঁদে ফেলার জণ্য এটি আরেকটি নতুন কৌশল। তবে এডিটিংয়ের মাধ্যমে এসব গুজব ছড়াচ্ছে।আরো পড়ুন: পুরোনো ঘটনা, নতুন বিতর্ক: আপেল মাহমুদকে ঘিরে অপপ্রচার !এ বিষয়ে আপেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ একটি অপপ্রচার। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এডিটিং করে এ ধরনের তথ্য প্রচার করছে। তিনি আরও বলেন, আমাকে নতুন কোনো আদেশে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে এমন তথ্যও সঠিক নয়। আমি পূর্বের একটি বদলির আদেশের কারণে সদর দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে কোনো বদলি বা সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়নি।পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার অনেকটাই যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচারিত হচ্ছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো অভিযোগ উঠলে সেটি তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই যাচাই করা হয়নি। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি। কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা উদ্দেশ্য থেকে তথ্য প্রচার করলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, বিষয়টি মূলত একটি পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, কিছু ভিডিও এবং অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যেগুলো সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ রয়েছে।আরো পড়ুন: অসত্য অভিযোগে চ্যালেঞ্জ, কঠোর হুঁশিয়ারি আপেল মাহমুদেরকক্সবাজারের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, আমরা যে ভিডিও বা নিউজগুলো দেখেছি সেগুলো সম্পূর্ণ না। অনেক জায়গায় কাটাছেঁড়া করা মনে হয়েছে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে এভাবে প্রচার করা ঠিক নয়। কক্সবাজারে অনেক সময় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা স্বার্থের কারণে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো হয়। এদিকে যুবদল নেতাকে ঘিরে যে কথিত ঘটনাটি প্রচার করা হয়েছে, সেটি নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতির সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নাম জড়িয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাই এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।একজন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, যদি সত্যিই এমন গুরুতর অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কাউকে লক্ষ্য করে প্রচার চালালে সেটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর।আরো পড়ুন: বিচ দখল ও অবৈধ স্পা বিরোধী অভিযানে অস্বস্তিতে সিন্ডিকেটএদিকে সাংবাদিক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু মানুষ অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে এ ধরনের সংবাদ প্রচার করছেন। তাদের দাবি, জসিমের চাঁদা দাবি, বিচ দখলসহ বিভিন্ন বিরোধের জের ধরেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে । তবে এ বিষয়ে সাংবাদিক জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানা যায়নি।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরে সেগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশের এক উর্দ্ধতন পক্ষ থেকেও এ ধরনের অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে কোনো তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী সেটি তদন্ত হবে। কিন্তু কোনো ধরনের অপপ্রচার বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে এবং এবিষয়ে আপেল মাহমুদের চাওয়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আপেল মাহমুদকে পূর্বের বদলির আদেশে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু নতুন কোন বদলির আদেশে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়নি।অন্যদিকে সচেতন মহল মনে করছে, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো নিরপেক্ষতা ও সত্য যাচাই। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় তা শুধু ব্যক্তি নয়, সামগ্রিকভাবে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।আরো পড়ুন: লামায় প্রশাসনিক কঠোরতায় আলোচনায় ইউএনও মঈন উদ্দিনবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গণমাধ্যম, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সব মিলিয়ে আপেল মাহমুদকে ঘিরে যে অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার সত্যতা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রক্রিয়া না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত