প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬
দরপতনের পর বৃষ্টির আঘাত: পানিতে তলিয়ে গংগাচড়ার আলুক্ষেত, দুশ্চিন্তায় কৃষক
আব্দুস সালাম, , গংগাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : ||
বাজারে আলুর দরপতনের হতাশা কাটতে না কাটতেই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টিতে আলুক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি এবং শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাতের বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু জমির আলুক্ষেতে পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও প্রবল বাতাসে আলুর গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে ফলন ভালো হলেও আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।আরও পড়ুন, বগুড়ায় হলুদে ধানের তুষ মিশিয়ে ভেজাল, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কোলকোন্দ, বড়বিল, লক্ষ্মীটারী, মর্নেয়া, গজঘণ্টা ও নোহালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আলুক্ষেতে পানি জমে আছে। অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে পানি সরাতে ছোট ছোট নালা কেটে দিচ্ছেন। কেউ কেউ পাম্প ব্যবহার করে পানি বের করার চেষ্টা করছেন। গজঘণ্টা ইউনিয়নের রাজবল্লভ এলাকার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ‘৮ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম নেই—এক কেজি আলু ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হলো। ক্ষেতের মধ্যে পানি জমে গেছে। আলু পচে গেলে আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে।’বড়বিল ইউনিয়নের ওকড়াবাড়ী গ্রামের কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, ‘এবার ঋণ নিয়ে আলু চাষে অনেক টাকা খরচ করেছি। এখন যদি বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়, তাহলে ঋণের টাকা শোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে।’ রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।আরও পড়ুন, বিয়ের বাড়ি থেকে নববধুর ঘরে ফেরা হলনা, বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্নউপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে আলু পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, হঠাৎ বৃষ্টির কারণে কিছু নিচু জমিতে পানি জমে আলুর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমে যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত