প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি
||
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। এশিয়ার বাজারে কেনাবেচা শুরু হওয়ার পর সোমবার (৯ মার্চ) দিনেই দাম বাড়ল ১৩ শতাংশ, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমানে যে দুটি জাহাজে ডিজেল এসেছে, সেটি বর্তমান বিশ্ববাজার দর হিসেবে প্রতি লিটার ডিজেলে খরচ পড়ছে প্রায় ১৪২ টাকা, কিন্তু বর্তমানে দেশে বিপিসি বিক্রি করছে প্রতি লিটার ১০০ টাকায়। দেশে প্রতি মাসে ১৫ জাহাজ তেল প্রয়োজন হয়। এখন যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম না কমে, তাহলে সেই হিসাবে মাসে বাড়তি খরচ পড়বে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ফলে দেশে দাম সমন্বয় না হলে পুরোটাই সরকারকে ভর্তুকির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালাচ্ছে এবং ইরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে এই বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।আরো পড়ুন , আজ যেসব এলাকায় দেওয়া হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের একাধিক তেল ডিপোসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির হুমকি সৃষ্টি করেছে।এই ধাক্কার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়ছে, যার ফলে সরকারের ভর্তুকির অঙ্কও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম আরো বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, এরই মধ্যে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে দেশি-বিদেশি কম্পানির পাওনা ৪৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আর্থিক সংকট আরো গভীর করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুসারে ভর্তুকি কমানোর চাপে সরকার দ্বিধায় পড়েছে, যা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে নীতিগত ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। এই সংকটের মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা উদ্বেগ। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা এশিয়ার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত