প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
সলিমপুর জঙ্গলে অভিযান সন্ত্রাসীদের দুর্গে যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ
সংবাদ দিগন্ত ||
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটিতে অবশেষে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্য পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মাটিতে ছিল সাঁজোয়া যান, আকাশে উড়ছিল ড্রোন ও হেলিকপ্টার। অভিযান ঠেকাতে সড়কে ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড এবং কালভার্ট ভেঙে দিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু কৌশলে বাধা ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে যান বাহিনীর সদস্যরা।অভিযানে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশকিছু অস্ত্র। তবে কী পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বা কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি কর্মকর্তারা। এদিকে অভিযানের খবর পেয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ কয়েকজন বোরকা পরে পালিয়ে গেছে।গত ১৯ জানুয়ারি বিকালে এই জঙ্গল সলিমপুরেই সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারান র্যাব-৭ এর কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব। এছাড়া র্যাবের চার সদস্যকে বেধড়ক মারধরের সেই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে ছিল। ওই হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এই দুর্গম পাহাড়েই আত্মগোপন করেছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।আরো পড়ুন , রাঙ্গাবালী ছাত্রদল নেতার মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন: সময়মতো উন্নত চিকিৎসা মিলল না কেন? চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ছিন্নমূল এলাকার পর আলী নগরের শুরুতে একটি বড় ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। এ ছাড়া কিছু দূরে খালের উপরের কালভার্টটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তার পরও আমরা কৌশলে খাল পার হতে পেরেছি।অভিযানের একপর্যায়ে দুপুরের দিকে সেখানে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ ও বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন। এ সময় ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর আগে চারবার এই এলাকায় অভিযানের চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। এবার যৌথ বাহিনী সফল হয়েছে। অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন।আরো পড়ুন , রংপুরে মুকুলে ছেয়ে গেছে আমগাছ, চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাতিনি আরও বলেন, অভিযান শেষ হলে এলাকায় স্থায়ীভাবে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। এখানে পুলিশের একটি ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প চালু থাকবে। যাতে ভবিষ্যতে এ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়। তিনি বলেন, ক্যাম্পের নিরাপত্তা বিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব।বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, সলিমপুর এলাকা শহরের খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও এতদিন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। অনেক আগেই এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া উচিত ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে এলাকায় সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় এখানে অভিযান চালানো সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পাহাড়ের ভেতরে অসংখ্য সরু পথ, গহিন ঝোপঝাড় ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বসতি থাকায় অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পারে।ড্রোন দিয়ে স্পট নির্ধারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে একাধিক শক্তিশালী ড্রোন ব্যবহার করেন। অভিযান শুরুর আগেই ড্রোন দিয়ে সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও আস্তানা চিহ্নিত করেন তারা। তারপরই যৌথ অভিযান শুরু করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত