প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
হাঁস চুরির অভিযোগে অপমান, যুবকের মর্মান্তিক আত্মহত্যা
সংবাদ দিগন্ত ||
ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে তুলকালামকাণ্ড ঘটে গেছে। চুরির ঘটনার বিচার হিসেবে নাকে খত দেওয়া ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার পর অভিযুক্ত মাসুম (১৯) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। (৮ মার্চ) উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের মিজিবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। মিজিবাড়ির আলাউদ্দিন মিজির বড় ছেলে মাসুম (১৯) ও তার সঙ্গী পার্শ্ববর্তী পাটওয়ারীর বাড়ির নয়ন পাটওয়ারীর ২টি চীনা হাঁস ও ১টি দেশি হাঁস শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে চুরি করে। ওই রাতেই চুরি করা হাঁস তিনটি নয়ন পাটওয়ারীর চাচাতো বোন রাবেয়ার কাছে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করে। (৭ মার্চ) সকালে প্রকাশ হওয়ার পর অভিযুক্ত মাসুমের ঘরে এলাকার যুবকরা কয়েক দফা যায়। একপর্যায়ে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান রোববার সকালে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে সালিশ বৈঠক করেন। চুরির ঘটনায় মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ঘটনাস্থলে নাকে খত দেওয়া এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ঘটনার পর বিকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে মাসুম নিজের বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আরো পড়ুন , বগুড়ায় গাঁজা বহনকারী কাজের জড়িত ৪ নারীকে ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতারএদিকে স্থানীয় লোকজন জানান, মাসুমসহ বেশ কয়েকজন এলাকায় ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া এলাকায় একটি মাদক সিন্ডিকেট রয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় মাসুমের নিথর দেহ নিয়ে স্বজনদের আহাজারি। তারা চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে এ করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। তাদের দাবি, হাঁস চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে দফায় দফায় ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মাসুমকে মারধর করা হয়। সর্বশেষ রোববার বিচারের সময় মাসুম ও তার মাকে অপমানজনক কথা বলা হয়। মাসুমকে সবার সামনে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। তাই সে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।মাসুমের মা মৌসুমী জানান, তার বড় ছেলে মাসুম তিনটি হাঁস চুরি করেছে। এ চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফা এলাকার ছেলেরা তার ছেলেকে শাসিয়ে যায় এবং মারধর করে। রোববার সকালে স্থানীয় মিজান মেম্বারের নেতৃত্বে বিচার হয়। বিচারে তার ছেলেকে দোষী করে নাকে খত দেওয়া এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে। এ সময়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে নানা কথায় অপমান করে তারা। বিচার শেষে বিকাল ৩টার দিকে আমি মাদ্রাসায় যাই। সেখানে যাওয়ার পর ৪টার দিকে সংবাদ পাই যে আমার ছেলে অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়েছে। এ ছাড়া চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে আমার ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।মাসুমের খালা সুমি বেগম বলেন, আমার বোনের ছেলের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চাই। তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত