প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
সরকারি অফিসে হাইভোল্টেজ নাটক বেতন বিতর্কে হাতাহাতি দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তির
সংবাদ দিগন্ত ||
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বেতন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও একটি সরকারি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে দায়িত্বশীল দুই ব্যক্তির এমন ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে তোলপাড় ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। (৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন বেতন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলামের কার্যালয়ে যান। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে তা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।আরো পড়ুন , "মিসাইল" হামলায় কুয়েতে সন্দ্বীপের প্রবাসী নিহত, এলাকায় শোকের ছায়াসরকারি দপ্তরের ভেতরে হঠাৎ হট্টগোল শুরু হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। একই সঙ্গে ফটিকছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মধ্যে এমন ঘটনার খবর দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই সরকারি দপ্তরের ভেতরে এ ধরনের আচরণকে দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন।ঘটনার বিষয়ে ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন দাবি করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যারা মবের শিকার হয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।তিনি বলেন, “আমি শুধু বেতন সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে অসম্মানজনক আচরণের শিকার হতে হয়েছে।”আরো পড়ুন , মুজিবনগরের মাঠে অজ্ঞাত পরিচয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেছে অন্যদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীন দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা দাবি করছেন। তাকে আগে নিয়ম অনুযায়ী ছুটি অনুমোদন করে আনতে বলা হলেও তিনি তা না করে অফিসে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং সরকারি নথিপত্র নষ্ট করার চেষ্টা করেন।তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ভুল বোঝাবুঝির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে। পরে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পর প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত