প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬
দেশজুড়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এম মিজানুর রহমান ||
এম মিজানুর রহমান: দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও দাগী সন্ত্রাসীদের একটি সমন্বিত তালিকা প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট ডাটাবেস প্রস্তুত করে আইনের আওতায় আনা হবে।মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা জোরদারে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথমত চাঁদাবাজদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি দ্বিতীয়ত অস্ত্রধারী ও কুখ্যাত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা। তার ভাষ্য, “নির্ভুল ও যাচাই-বাছাই করা তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা করা হবে, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।”পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের অবদান ঐতিহাসিক। অতীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় পুরো বাহিনীর ওপর বর্তালেও প্রতিষ্ঠানগতভাবে পুলিশ দায়ী নয়। “কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটি কাটিয়ে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি।আরো পড়ুন , ইস্টার্ণ ইন্সুরেন্সের মাহমুদ ও জাকিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাতিনি আরও বলেন, প্রশাসনে ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব’ নয়, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই হবে সিদ্ধান্তের ভিত্তি। “রুল অব ল’ নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ আইন মেনেই চলবে এবং জনগণের বন্ধু হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবে।”মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর থেকেই ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তার বক্তব্য, নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা যেন ঊর্ধ্বতনদের এড়িয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নেন এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বার্তা ইতোমধ্যে বিভাগজুড়ে পৌঁছে গেছে। তবে প্রয়োজনবোধে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজের স্বার্থে যে কোনো স্তরে যোগাযোগ করতে পারবেন বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।উল্লেখ্য যে রাজধানীর সড়কব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যানজট কমাতে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে এবং ট্রাফিক বিভাগকে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। ভিআইপি ও প্রধান সড়কে নন-মোটরাইজড যান চলাচল সীমিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।তিনি জানান, উত্তরা থেকে সচিবালয় পর্যন্ত নির্দিষ্ট সড়ককে পরীক্ষামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত করিডর হিসেবে পরিচালনা করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য সড়কেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও ট্রাফিক আইন মানার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “শুধু প্রশাসনের পদক্ষেপে নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নাগরিক সচেতনতাও জরুরি।”স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত