প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও চাঁদা দাবি
ডেস্ক ||
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক জনপদ সোনারগাঁ উপজেলায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক পীর মোহাম্মদ (৩৫) রোববার (১ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী পীর মোহাম্মদ জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত-এর বিশেষ প্রতিনিধি, মোভি বাংলা টেলিভিশন-এর সোনারগাঁ প্রতিনিধি এবং সোনারগাঁও জার্নালিস্ট ক্লাব-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার চৌধুরীগাঁও এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে অবস্থানকালে তিনি হামলার শিকার হন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন (৪৭)সহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।পীর মোহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ইকবাল হোসেনের হাতে থাকা একটি এসএস পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তার ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায়। একই সময় হামলাকারীরা তার ব্যাগে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাটি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।হামলার পর আহত অবস্থায় পীর মোহাম্মদকে দ্রুত সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।থানায় দায়ের করা অভিযোগে হামলা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদ হাসান খান বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ঘটনার পরপরই স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সোনারগাঁও জার্নালিস্ট ক্লাব-এর সভাপতি ফারুকুল ইসলাম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও হুমকি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।” স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর কিছু মহল সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ তারা শুনেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের তদন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় এক জাতীয় পার্টির নেতাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দলীয় পরিচয় সামনে এলে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আইনজীবীদের মতে, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো প্রমাণিত হলে তা দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—যার মধ্যে চাঁদাবাজি, গুরুতর আঘাত, ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে তারা বলেন, অভিযোগ প্রমাণের দায় বাদীর ওপর বর্তায় এবং তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। ঘটনার পর এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, দিনের আলোতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, তদন্তের আগে চূড়ান্ত মন্তব্য না করাই শ্রেয়।আরও পড়ুন, সীমান্তে অভিযান ভারতীয় পণ্যের বড় চালান জব্দগণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকরা নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। একইসঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করাও জরুরি। বর্তমানে অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে যেমন ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন, তেমনি গুজব বা বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটবে। সোনারগাঁয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী এলাকায় এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।ঘটনাটি এখন তদন্তের পর্যায়ে থাকলেও, এর প্রভাব ইতোমধ্যে সাংবাদিক সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি এখন তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের দিকে। এবিষয়ে হামলাকারীর সাথে একাধিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে সোনারগাঁও থানা পুলিশ বলছে, বিষয়টি খুবই দুঃখজন। তবে তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীর বিরেদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত