প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে ঠিকাদার অপহরণ, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
সুমন খান ||
রাজধানীর দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে এক সরকারি সংস্থার ঠিকাদারকে অপহরণ করে ‘টর্চার সেল’-এ উল্টো করে ঝুলিয়ে অমানবিক নির্যাতন, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাদা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোঃ নিজামুদ্দিন (৪২) দাবি করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী একটি গ্রুপ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মামলা দায়েরের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।অপহরণের ঘটনাপ্রবাহ: সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত,ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ এলাকায় অবস্থানকালে তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী শাহীন-এর নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে হাসনাবাদ মাজার সংলগ্ন একটি অফিসে নিয়ে যায়।অফিসের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে তাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে মুখে কাপড় গুঁজে লাঠি ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। নির্যাতনের সময় ৫০,০০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা না দিলে ,মেরে ফেলার”হুমকি দেওয়া হয়। জোরপূর্বক সাদা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং নগদ ২,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।ওরা বলেছে, টাকা না দিলে লাশ গুম করবে। আমি বাঁচার জন্য কাকুতি-মিনতি করেছি। উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করেছে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।রক্তাক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া, থানায় ডায়েরি,মারধরের ফলে তার পরনের কাপড় রক্তাক্ত হয়ে গেলে তা খুলে পুরনো কাপড় পরিয়ে রাত প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটে রিকশায় তুলে দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলে অনুসরণ করে তাকে থানায় না যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে সুযোগ পেয়ে তিনি দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কর্তব্যরত কর্মকর্তা তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠান।তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় উযধশধ গবফরপধষ ঈড়ষষবমব ঐড়ংঢ়রঃধষ-এ চিকিৎসা নেন।মামলা দায়ের, কিন্তু অগ্রগতি কোথায়?এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলা নং ৩০, ধারা ৩৪২/৩৬৪/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৩৮৬/১০৯/১১৪/৩৪/২০৬ দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা হয়েছে। তবে অভিযোগ, এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি।মামলা করার পর থেকেই আরও বেশি হুমকি পাচ্ছি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় আছি।ঠিকাদারি ও প্রভাব বিস্তার: চাঁদাবাজির নতুন কৌশল?ভুক্তভোগী জানান, তিনি (বিআইডব্লিউটিএ)-এর অধীনে গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকারি প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাঁদা দাবির অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসনাবাদ এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করছে।আরও পড়ুন, বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে পলাশবাড়ীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সভানাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন,এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেক কাজ করানো হয়। কেউ মুখ খুলতে চায় না।টর্চার সেল’ প্রশ্নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা,স্থানীয়ভাবে কোনো অফিসে ‘টর্চার সেল’ পরিচালনার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা সংগঠিত অপরাধের শামিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপহরণ-নির্যাতন গণতান্ত্রিক সমাজে অগ্রহণযোগ্য। দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলা তদন্তাধীন এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন ভুক্তভোগী মোঃ নিজামুদ্দিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত