প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংকট থেকে সাহসিকতায় আপেল মাহমুদের গল্প
ডেস্ক ||
চাঁদাবাজদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান নারী ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য সহায়তা ডেস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রি কর্মজীবন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জবাংলাদেশ পুলিশের ভেতরে নেতৃত্ব, নীতি ও ন্যায়বোধ এই তিনটি শব্দ কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না, বাস্তব মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলনই প্রকৃত মূল্যায়নের মাপকাঠি। বিগত কয়েক বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওঠানামার মধ্যেও কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সাহস, পেশাদারিত্ব ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে আলাদা করে নজরে এসেছেন। তাদের মধ্যেই অন্যতম নাম অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশ-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক আলোচিত কর্মকর্তা। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার কর্মজীবনের আলো-ছায়া, ডিএমপিতে সংস্কার উদ্যোগ, বাধা ও বদলির অভিজ্ঞতা, এবং কক্সবাজারে পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দৃশ্যমান ভূমিকার বিশ্লেষণ। রাজধানী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এ দায়িত্ব পালনকালে আপেল মাহমুদ বেশ কিছু দৃশ্যমান ও কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। পুলিশের একটি অংশ মনে করে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা ও জনআস্থা বাড়ত। তবে অভিযোগ রয়েছে এই পরিবর্তনমুখী অবস্থানের কারণেই তিনি প্রভাবশালী কিছু মহলের অসন্তোষের মুখে পড়েন।সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সংস্কারমূলক কার্যক্রমে কঠোর অবস্থানের কারণে পুলিশের কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান। পরবর্তীতে তাকে ডিএমপির বাইরে এমন স্থানে বদলি করা হয়, যাকে অনেকেই দুর্বল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পোস্টিং হিসেবে উল্লেখ করেছেন।দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়কে অনেকেই এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন। এই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারে তার নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারে কার্যক্রম বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতখ্যাত কক্সবাজার পর্যটক নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত। পুলিশ সপ্তাহে সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য পদকপ্রাপ্তি একজন কর্মকর্তার কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। আপেল মাহমুদও দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন বলে জানা যায়। তবে স্বীকৃতি তার নেতৃত্বগুণকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে সহকর্মীরা মন্তব্য করেছেন।বর্তমান সময়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই জনমতের পরীক্ষায় পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কক্সবাজারে তার উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ও ব্লগে ইতিবাচক আলোচনা দেখা গেছে। তবে সমালোচকরাও আছেন। কেউ কেউ বলেন, ব্যক্তি নির্ভর সাফল্য টেকসই হয় না; প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে অনেকে মনে করেন, কঠোর ও নিরপেক্ষ মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রয়োজন। বাংলাদেশ পুলিশের কাঠামোগত শক্তিশালীকরণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত, দক্ষ কর্মকর্তাদের সঠিক স্থানে পোস্টিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি এমন মত বিশ্লেষকদের।বিগত স্বৈরাশাসক আমলে তিনি রাজধানীতে দায়িত্ব পালনকালে শৃঙ্খলামূলক উদ্যোগ, পরবর্তীতে বদলি, আর সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে দৃশ্যমান তৎপরতা এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় রয়েছেন আপেল মাহমুদ। বর্তমানে তিনি ট্যুরিস্ট পুলিশ এর অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের কর্মজীবন একদিকে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের গল্প, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের দৃঢ় নেতৃত্বের উদাহরণ। ডিএমপিতে সংস্কার উদ্যোগ থেকে কক্সবাজারে দৃশ্যমান নিরাপত্তা জোরদার—সব মিলিয়ে তিনি আলোচিত এক কর্মকর্তা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট কোনো ব্যক্তির একক প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না, যদি না তা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরে শক্তভাবে প্রোথিত হয়। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহসী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। প্রশ্ন এখন রাষ্ট্র সেই নেতৃত্বকে কতটা প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দিতে প্রস্তুত?
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত