প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রায় ১০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা ইমরান। অসহায় বৃদ্ধা মায়ের চোখে অশ্রু!
ডেস্ক ||
ময়মনসিংহের আছিম পাটুলি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে শিকলে বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে ইমরান হোসেন। অসহায় বৃদ্ধা মায়ের মানবিক সহায়তার আকুতি। একসময় সুস্থ-স্বাভাবিক, পরিশ্রমী যুবক ছিলেন ইমরান। আছিম বাজারে একটি ছোট হোটেল ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। স্বপ্ন ছিল সুখের সংসার গড়ার। প্রায় দশ বছর আগে পাশের গ্রামে বিয়েও করেন তিনি। কিন্তু তার সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের কিছুদিন পর পারিবারিক কলহে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী বাপেরবাড়িতেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্ত্রীর এই মর্মান্তিক মৃত্যু ইমরানের জীবনে নিয়ে আসে ভয়াবহ পরিবর্তন। প্রিয় মানুষের অকাল মৃত্যু যেন ভেঙে দেয় তার মানসিক শক্তি। ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য।আছিম পাটুলি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রামনগর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে ইমরান। দারিদ্র্যতা নিত্যসঙ্গী হয়ে দাড়িয়েছে ইমরানের পরিবারে। চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই এই অসহায় মায়ের।গত বছর মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে কিছু টাকা তুলে ছেলের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তা বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। ফলে দিন দিন ইমরানের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিজের এবং আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখতে বাধ্য হন মা। ৭৯ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কেউ আমার ছেলের সাথে কথা বললে ও সুন্দও কওে কথা বলে। গত বছর আমার ছেলে ঈদের দিন নিজে গোসল করেছিল, আর এই বছর ঈদ চলে আসছে, ওকে গোসল করাতে পারি না, কাছে যেতেও ভয় পাই। বউ মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার ছেলে আর আগের মতো নেই।আরও পড়ুন, ফুলবাড়ীয়ায় রমজানে নিত্য পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মতবিনিময়বৃদ্ধা মা অসহায়ের মতো বলেন, “অল্পতেই ওর খুব রাগ উঠে যায়। তখন কাউকে চিনে না, মারধর করে। তাই বাধ্য হয়ে শিকল পরিয়ে রাখি। ছেলেকে শিকল পরিয়ে রাখেতে আমার বুক ফেটে যায়, কিন্তু কিছুই করার নেই। একদিকে সন্তানের অসুস্থতা, অন্যদিকে অভাবের নির্মম বাস্তবতা এই দুই কষ্টের ভার আমি মা হয়ে বয়ে বেড়াচ্ছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম ফারুক বলেন, অনেক করিবাজ ও ডাক্তার দেখিয়েছেন, কিছুদিন চিকিংসা নিলেও টাকার অভাবে আবার চিকিৎকা বন্ধ করে দিতে হয়। যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পেলে ইমরান আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। সমাজের বিত্তবাণ বা সরকারের প্রয়োজন শুধু একটু সহানুভূতি, একটু সহযোগিতা পেলে হয়তোবা ইমরান আবার স্বাভাবিক জিবন ফিরে পেতো।স্থানিয় বাসিন্দা মো. ইউছুব মহরি বলেন -সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহানুভূতিশীল দৃষ্টি এই অসহায় মা-ছেলের জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে আসতে পারে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা এখনো সন্ধান পাইনি, পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত