প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সহানুভূতি পেয়েও ভোটে জয় পেলেন না অলি
সংবাদ দিগন্ত ||
আলোচিত চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে পরাজিত হয়েছেন জামায়াত জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পুত্র ওমর ফারুক। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন। অলি আহমদ নিজে প্রার্থী না হলেও ছায়ার মতো ছেলের সঙ্গে ছিলেন, তাকে বিজয়ী করতে ভোটারের ঘরে ঘরে গেছেন। ছেলের এই পরাজয়কে তাই স্থানীয় ভোটারেরা অলির পরাজয় বলে মনে করছেন।তারা বলছেন, শেষ বয়সে এসে মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদ শুধু জামায়াত জোটে যোগ দেননি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার সন্তান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়েও নানা কটূক্তি করেছেন। ভোটারেরা বলছেন, অলি আহমদ কথায় কথায় বলেন- জিয়াউর রহমানের আগেই আমি পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলেছি। তার এসব দাম্ভিকতার বিরুদ্ধে ওই আসনের ভোটারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘উই রিভোল্ট’ বলেছেন। ভোটারেরা তাকে প্রত্যাখান করেছেন। এর মধ্যদিয়ে দাম্ভিক অলির পতন হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, এই পরাজয়ে দুই কুলই হারালেন অলি।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে চন্দনাইশের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারি ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এসময় তিনি জসিম উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পরাজিত হন তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিত্যাগী এলডিপির সভাপতি অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক। প্রথমে বিএনপি এবং পরে এলডিপি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি অলি আহমদের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। বিএনপির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় অলি এবার তার দল নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় জোট করেন। আরো পড়ুন , সংবাদ সম্মেলনে আজ বিকেলে আসছেন তারেক রহমানএরপর থেকে তিনি জামায়াতের বিভিন্ন সভা সমাবেশ এবং তার পুত্রের নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাসহ নানা প্রসঙ্গে বিতর্কিত বক্তব্য দেন। নির্বাচনী লড়াইয়ে তার পুত্রের পরাজয়ের পর চট্টগ্রাম-১৪ আসনসহ সর্বত্রই তার ব্যাপারে সমালোচনার ঝড় বইছে।চট্টগ্রাম অঞ্চলে জোট সঙ্গী জামায়াতের ভরাডুবি ছাপিয়ে মানুষের আড্ডা-জটলায়, চায়ের দোকানে অলি আহমদের ‘পতনের’ বিষয়টি বেশি আলোচিত হচ্ছে। নেটিজনেরাও নানা মন্তব্য করছেন অলি আহমদকে নিয়ে। ভোটারেরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারে অলি আহমদের বেশ কিছু বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়। তিনি নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত নেতাদের পাশে রেখে বিএনপি সর্ম্পকে যেসব উক্তি করেছেন, তা রীতিমত রাজনৈতিক শিষ্টাচারের খেলাপ। তিনি দল হিসেবে বিএনপিকে বিভিন্ন খারাপ বিশেষণে বিশেষায়িত করেন প্রতিনিয়ত। অলি আহমদ আনোয়ারায় জামায়াত প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের এক নির্বাচনী জনসভায় আনোয়ারাবাসীকে প্যান্ট পরানো শিখিয়েছেন বলেও দম্ভোক্তি করেন। তার ওই বক্তব্য নিয়েও আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া আসনে জামায়াতের নির্বাচনী সভায়ও ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে রাঙ্গুনিয়ায় বহিরাগত হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য দেন।বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের কয়েকজনের মধ্যে নিজেকে একজন দাবি করা এই প্রবীণ নেতার এমন সব বক্তব্য এবং কটূক্তিতে চট্টগ্রামে সমালোচনা চলছেই। স্থানীয় ভোটারেরা বলছেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মানুষ তাকে বারবার এমপি বানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত