প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
গণভোট প্রসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে মাঠে তারেক রহমান
সংবাদ দিগন্ত ||
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের সম্মানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।(৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিশাল জনসভায় এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেনি।এসময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, অতীতের সরকার আমলে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। বিএনপি এই নির্বাচনে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় আসলে সেই লুটের টাকা ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাবে। আগে নিশি রাতে ভোট হয়েছে। সেই ভোটের রাজনীতি আর হতে দিব না। জনসভা থেকে তিনি রেজিস্ট্রার এনজিও থেকে যারা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারছেন না, তাদের সেই ঋণ বিএনপি সরকার গঠন করলে পরিশোধ করবে বলে জানান। তিনি বলেন, শুধু তাই নয় রংপুর অঞ্চলে ঢেলে সাজাতে হবে। এই অঞ্চলে যেমন খনিজ সম্পদ আছে তেমনি কৃষিতে সমৃদ্ধ। কৃষিজাত শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করা হবে। এজন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই অঞ্চলে আইটি শিল্প স্থাপন করে এই এলাকার শিক্ষিত তরুণ-যুব সমাজকে আইটি কোম্পানিগুলোতে চাকরির সুযোগ করে দিয়ে তাদের আইটিতে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ করা হবে। তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। তা হলে রংপুরের আবু সাঈদ ও চট্রগ্রামের ওয়াসিমসহ যে ১৪শ’ জন যে স্বপ্ন নিয়ে শহীদ হয়েছে তাদের সেই ঋণ কিছুটা শোধ হবে। এ সময় তারেক রহমান আরও বলেন, প্রিয় ভাই বোনেরা আগস্টের ৫ তারিখে দেশের পরিবর্তন চেয়েছে। মানুষ চায় নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে, মানুষ চায় নিরাপদে পথ হাঁটবে। নিরাপদে ঘুমাবে। তাই জুলাই-বিপ্লবের সকল শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে যে হাজার মানুষ আত্মত্যাগ ও জীবন উৎসর্গ করেছে। তাদের সেই আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা জুলাই সনদে যে স্বাক্ষর করেছি তাকে সম্মান করতে হবে। তাই ধানের শীষে যেমন ভোট দিবেন তেমনি আর একটি দ্বিতীয় ব্যালট পেপারে হ্যাঁ এবং না থাকবে সেই ব্যালট পেপারে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিবেন। জুলাই বিপ্লব-পাঁচ আগস্টের আন্দোলন কোন রাজনৈতিক দলে ইশারায় হয়নি। জনগণের দীর্ঘদিনের যে নিপিড়ন-নিষ্পেষণ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছিল তা থেকে স্বতস্ফুর্ত বিস্ফোরণে হয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের ভোটের পবিত্র আমানত প্রয়োগের জন্য বলেন, ‘আপনারা ভোরবেলা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। যাতে আপনার ভোট কেউ ছিনতাই করতে না পারে।’তিনি পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কে বলেছে রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে পড়া। রংপুর অঞ্চল সব চেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে পীরগঞ্জে কয়লা-লৌহ খনি, দিনাজপুরে কয়লা, পাথর খনি আছে। রংপুর-দিনাজপুর কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। এই সব সম্পদ আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে রংপুর-দিনাজপুর হবে সব চেয়ে সমৃদ্ধ ও উন্নত এলাকা। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি সংকট প্রসঙ্গ তুলে বলেন, রংপুর অঞ্চলের পানির সংকট দূর করতে আমরা সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। যা কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটাবে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত