প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের ৪ আসনে নির্বাচনী প্রচারনা এখন তুঙ্গে - সর্বমোট ভোটার ১৮ লাখ ২১ হাজার ৩ শত ৭৯ টি
সৈয়দ মোঃ আবুল কালাম,, নিজস্ব প্রতিবেদক: ||
দিন তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনায় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ নিয়ে দেশের সর্ব দক্ষিণ অঞ্চলে চারটি আসন রয়েছে। এই চার আসনে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় এখন তুঙ্গে। প্রার্থীদের চোখে ঘুমনেই। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যার যার মত করে তারা এগিয়ে আসেন সমর্থনেরা জানিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে কেউ বলেন জমায়েত এগিয়ে আরা কেউ বলে বিএনপি বেশি এগিয়ে । এ নিয়ে এলাকা ভিত্তিক সমর্থকদের মাঝে রশি টানাটানি চলছে। এ প্রচারনাকে সামনে রেখে নিজ নিজ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনের ফসল ঘরে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নেতাকর্মী সমর্থকদেরকে সাথে নিয়ে তারা গ্রামে গঞ্জে ভোটাদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন ভোট চাইতে। নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এবারে চার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরকে বিজয় পেতে প্রচুর ঘাম ঝরাতে হবে বলে ভোটারেরা জানিয়েছেন। কক্সবাজারের ৪টি আসনেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও এবারে জয় পেতে কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। তারা আরো বলেন এদিকে জমায়েতের প্রার্থীরা শক্ত বলয়ের অবস্থানে রয়েছেন। এরা কোমার বেঁধে মাঠে নেমেছে।মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ও উখিয়া-টেকনাফ আসনে জামায়াতে ইসলামী কৌশলগত বলয় নিয়ে অবস্থান করাতে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মেলেছে। বাকি দুটি আসনে বিএনপির বিজয় পেতেও মাঠে ঘাম ঝরাতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকেরা।কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) : এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুক। ফারুক নির্বাচনের মাঠে নতুন মুখ। সালাহউদ্দিন আহমেদ নির্বাচনে নানান প্রতিশ্রুতিসহ অতীতের কর্মকান্ড তুলে ধরেছেন বলেন, পুরো দেশের ভাগ্য উন্নয়নে আমি কাজ করে যাচ্ছি।” স্থানীয় ভোটারেরা জানান তার নিজের ইমেজ ও অতিতের উন্নয়নের রেকর্ডের সূত্র ধরে এ আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ের আশা করছে। কিন্তু জামায়াত নাসোর বান্দা। এদিকে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া): মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সমৃদ্ধ এই ভিআইপি আসনে বিএনপির সাবেক এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠ কাঁপানো জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। ২০০৮ সালে এখানে জামায়াত জয়ী হলেও সেটি ছিল জোটগত অবস্থানের কারনে নির্বাচন। এবার দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে সমানে সমান টক্কর হবে। নির্বাচনে ফসল ঘরে তুলতে কষ্ট হবে। দুই প্রার্থীদেরকে ঘাম ঝরাতে হবে। কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও): বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের শহীদুল আলম বাহাদুর( ভিপি) ও ইসলামী আন্দোলনের মুহাদ্দিস আমিরুল ইসলাম।বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে লুৎফুর রহমান কাজল ছাড়া অন্যরা শক্ত প্রতিরোধ গড়তে পারবেন না বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। তবে স্থানীয় সচেতন মহলেরা জানায় জয় পেতে বিএনপি'র প্রার্থীকে কঠিন হবে। নির্বাচনে মোড় ঘুরে যেতে পারে। এ আসনে বাহাদুর কঠিন অবস্থানে রয়েছে। এদিকে কাজল জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মাঝে ভোট দেওয়ার স্বপ্ন জাগ্রত হয়েছে, যা বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করবে।আরও পড়ুন, সাতক্ষীরায় বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক জব্দকক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ): এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমীর মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। শুরুতে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দলের একাংশের ক্ষোভ থাকলেও, এখন সবাই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে । শাহজাহান চৌধুরী বলেন, উখিয়া-টেকনাফ যে বিএনপির ঘাঁটি, তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবারও প্রমাণিত হবে। এদিকে ভোটারগণ সাফ কথা জানান এবার দুর্নীতিবাজ কে ভোট দেবো না, সৎ ও যোগ্যবান ব্যক্তিকে যাচাই বাছাই করে প্রার্থীকে ভোট দেবে। যারা এলাকার মানুষের উন্নয়ন করবেন কক্সবাজারের উন্নয়নে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদেরই বেছে নিতে চান ভোটাররা। এ নিয়ে চার আসনে নির্বাচনী সমিকরণ তুঙ্গে হয়ে উঠেছে । এ সবমিলেই কক্সবাজারের রাজনীতির সমীকরণ ধীরে ধীরে জটিলতানধারন করতে পারে বলে সচেতন মহলেরা জানান । আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সাধারন নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার জেলায় নির্বাচনে প্রচারনা এখন তুঙ্গে ।এদিকে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায় এবারে কক্সবাজার জেলায়, চারটি আসন সর্বমোট, ১৮ লাখ ২১ হাজার ৩৭৯ জন নারী পুরুষ মিলেই। কেন্দ্র হল ৫ শত ৮৯ টি। পর্যায়ক্রমে কক্সবাজার ১ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৬২ টি, কক্সবাজার ২ আসনে ৩৮ ভোটার ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৪ টি, কক্সবাজারে ৩ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ০৪৮ টি, ও কক্সবাজার ৪ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ টি। সর্বমোট হল ১৮ লাখ ২১ হাজার ৩৭৯ টি। সর্বমোট কেন্দ্রের হল ৫ শত ৮৯ টি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত