প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ফুলবাড়িয়ায় দিনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা
ডেস্ক ||
ফুলবাড়িয়া পৌর শহরের বড় পুকুরপাড় (বকুলতলা) উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চলছে চিকিৎসাসেবা। দিনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসাসেবা দিলেও রাতে মাদকসেবীদের বিচরণ থাকে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির পাশের বাসাবাড়ির ভেজা কাপড় হাসপাতালের সামনেই দড়ি লাগিয়ে শুকানো হয়। আশপাশে পড়ে থাকে বাজারের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সারাক্ষণ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। এখানে চিকিৎসা নিতে এলেও দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেককে কাপড়ে নাক ঢেকে রাখতে দেখা গেছে। গত সোমবার চিকিৎসা নিতে আসা পৌর ৮ নং ওয়াডের ভাটিপড়া গ্রামের আয়শা আক্তার বলেন, দুর্গন্ধের মধ্যে তাদের চিকিৎসা নিতে হয়। শুধু প্রেসার মেপে প্রেসক্রিপশন লিখে বিদায় করে দেন, কোনো ওষুধ পান না। জিজ্ঞাসা করলে বলে ওষুধ নেই। ভবনের ভেতরের অবস্থাও আরো অত্যন্ত করুণ। চেয়ার-টেবিল ভাঙাচোরা, দরজা ও জানালার বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো টিনের চালের সিলিং এবং টিনের বেড়া অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে রোগী ও চিকিৎসকদের ওপর ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাথেই স্থানীয় দোকানদার খোরশেদ জানান, অনেক দিন ধরে এখানে দোকান করছি। সন্ধ্যা হলেই স্থানীয় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। দু-একবার এই চিকিৎসা কেন্দ্রের ভেতর থেকে ফোন চুরি করে নিয়ে গেছে। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান স্বীকার করলেন এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুরবস্থার কথা। তিনি বলেন, 'এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করা আমাদের জন্যও কষ্টের। রোগী ও কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সংস্কার জরুরি। রেশমা আক্তার নামে এক রোগী জানান, চিকিৎসা নিতে এসে দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থাকেন তারা। এমন নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়া নিজের স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলার শামিল।আরও পড়ুন, শ্রীপুরে হাওলাদ ও এনজিও ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগচিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও অনিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র যেখানে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসেন, সেখানে এমন পরিবেশ থাকা স্বাস্থ্যবিধি ও মানবিকতার পরিপন্থি। দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরের পরিবর্তন করে পাকা ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় আসবাব পরিবর্তন করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন বলেন, এখানে এমবিবিএস ডাক্তারের পদায়ন নেই। একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং একজন ফার্মাসিস্ট চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে সিভিল সার্জনকে জানিয়ে ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত