প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬
এক অপরাধে তিন সাজা, এই প্রশাসনের অধীনে কেমন করে নির্বাচন করি: রুমিন ফারহানা
ডেস্ক ||
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। একটা অপরাধের জন্য প্রশাসন থেকে তিনবার শাস্তি পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এসব অভিযোগ তোলেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুই দিন ধরে দেখলাম ফেসবুকে দুটি চিঠি ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রথম চিঠিটি ফেসবুকে দেখলাম, এটা কিন্তু আমার কাছে আসে নাই। প্রথম চিঠি দিয়েছেন উপজেলা (সরাইল) নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। চিঠিটি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। ১৭ তারিখের একটা চিঠি ১৭ তারিখ রাতেই, ১৮ তারিখ সকাল বেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। যে ইউএনও কার্যালয় একটা চিঠির নিরাপত্তা দুই ঘণ্টাও রাখতে পারে না, গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে না, তাঁরা কী করে একটা নির্বাচনের মতো বড় কাজকে পরিচালনা করবেন?’ফেসবুকের মাধ্যমে গতকাল রোববার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় থেকেও একটি কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। এসব বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৭ জানুয়ারি সরাইলের ইসলামাবাদে আমরা কোনো জনসভা করি নাই। এটা একটা ছোট উঠান বৈঠক ছিল। এর মধ্যে যখন ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব আসলেন, তিনি এসে পুলিশ নিয়ে ভেতরে ঢোকেন, উঠানে আসেন। আমি বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করি এবং নেমে যাই। আমি বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করেছি, আমার কোন আচরণবিধিটা লঙ্ঘন হয়েছে। উনি আমাকে বলতে পারছিলেন না। একটা পর্যায়ে আমি উত্তেজিত হয়ে বলি, সবাই প্রচারণা করছে। আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।’রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাই নাই। অর্থাৎ দুটি সরকারি চিঠিতে দাবি করা হয়েছে আমি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছি। এটি সর্বৈব মিথ্যা। আমি বলেছি যে অন্য প্রার্থীর কর্মীরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। হাবিব সাহেব (আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান) যখন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান, প্রশাসন সেখানে উপস্থিত ছিল। কিচ্ছু করে নাই।’এক অপরাধের জন্য প্রশাসন থেকে তিনবার শাস্তি পেয়েছেন জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এর আগেও আমাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করল, তার মানে আমার অপরাধে শাস্তি হলো ৪০ হাজার টাকা জরিমানা। তারপরে দ্বিতীয় অ্যাকশন হলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিঠি পাঠালেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে। এক অপরাধের জন্য আমার দুই নম্বর শাস্তি। এখানেই থামল না। তিন নম্বর শাস্তি হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা ডিসি আমাকে নোটিশ পাঠালেন। আমি এখনো সেই নোটিশ পাই নাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। একটা অপরাধের জন্য তিন জায়গায় শাস্তি দেওয়া হলো। এক অপরাধে তিন সাজা। এই প্রশাসনের অধীনে আমি কেমন করে নির্বাচন করি, যারা অলরেডি এতটা বায়াস।’আসনটিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। ওই প্রার্থীর বিষয়ে প্রশাসন অনেকটাই নীরব বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘জোনায়েদ আল হাবিবের প্রচারণাকালে আমাকে বলা হয়েছে নর্তকী ও টিস্যু পেপার, যাঁকে দল ব্যবহার করে এখন ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এ ধরনের উসকানিমূলক, আক্রমণাত্মক ও লৈঙ্গিক পরিচয় দিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি জেলা প্রশাসক।’আরও পড়ুন, খানসামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার ও ওষুধে অনিয়ম: দুদকের অভিযানরুমিন ফারহানা জানান, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ২৬ ধারা অনুসারে, নির্বাচনী তদন্ত কমিটি একটা আছে, যার কাছে ইউএনও চিঠি দিয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধিমালা নিয়ে জেলা প্রশাসকের শোকজ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক আমাকে কেন শোকজ করেন, সশরীরে উপস্থিত হতে আদেশ দেন। উনি কী পারেন। উপস্থিত না হলে তিনি (জেলা প্রশাসক) যে ব্যবস্থা নিবেন, এই যে কথাটি বললেন, এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন আসলে কী ব্যবস্থা নিবেন। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে বিনীতভাবে প্রশ্নটি রাখছি।’এসব অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের নজরে আনা হলে তিনি জানান, রুমিন ফারহানার এসব কথা মনগড়া। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ আমি যে কাউকে, যেকোনো প্রার্থীকেই দিতে পারি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করামাত্রই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর জন্য বলা যাবে। এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তিনি কারণ দর্শাবেন আমি নির্বাচন কমিশনকে সেটা জানিয়ে দিব। তিনি মনগড়া কথা বললেই হবে না। প্রতিদিন আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যাচ্ছেন, জরিমানা করছেন। সেগুলো আমরা প্রতিদিন নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিচ্ছি। আজকেও অভিযোগ এসেছে এক প্রার্থী মঞ্চ করেছেন, সাথে সাথেই আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে মঞ্চ ভেঙে দিয়েছেন।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত