প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
দুদিন পর শুরু নির্বাচনী প্রচারণা বড় চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা
সংবাদ দিগন্ত ||
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর মাত্র দুদিন পর অর্থাৎ আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার। কার্যত সেদিন থেকেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে র্যাব, পুলিশসহ ভোটের মাঠে থাকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দলবদ্ধ সহিংস আচরণের আশঙ্কা করছে। এ ছাড়া পেশিশক্তি প্রদর্শন, বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির আশঙ্কাও করা হচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, প্রচার-প্রচারণা যেদিন শুরু হবে, সেদিন থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আরও অধিক সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রার্থীদের প্রচারকে কেন্দ্র করে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ ঘিরে প্রতিপক্ষের কর্মী, সমর্থক ও ক্যাডারদের মধ্যে যে কোনো সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। শুরুতেই এসব বিষয় কঠোরভাবে দমন করা না গেলে রক্তক্ষয়ী সংঘাতও বেধে যেতে পারে। তাই ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখতে ২২ জানুয়ারি থেকে র্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও পথসভা শুরুর আগেই যেন প্রার্থীরা পুলিশকে জানায়, এ লক্ষ্যে প্রার্থী এবং তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের সঙ্গে প্রতিটি থানার ওসিকে যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আগে থেকেই পরিস্থিতি বুঝে আগাম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ছাড়া সুষ্ঠু ভোটের ক্ষেত্রে হুমকি হতে পারে এমন ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের আইনের আওতায় আনতে সব জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আরো পড়ুন , শবে বরাতের তারিখ সন্ধ্যায় ঘোষণা হবেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার দিন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনসহ সুষ্ঠু ভোটানুষ্ঠানে সম্পৃক্ত সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সজাগ থাকা প্রয়োজন।এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, অনেকেই নির্বাচনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করতে পারে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব অপচেষ্টা মোকাবিলা করতে হবে। সর্বোপরি জনসম্পৃক্ত উপায় অবলম্বন করে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সচেষ্ট ও সক্রিয় থাকা প্রয়োজন।পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, একটি অপশক্তি নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় আছে। তাদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর দিন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরও সজাগ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যে কোনো সভা, সমাবেশ বা নির্বাচনী গণসংযোগের আগাম তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিও বাড়াতে হবে। যে কোনো ঘটনার আগাম তথ্য সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত