প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
হাসিনার বিতর্কিত নির্বাচনের নেপথ্যে কারা ছিলেন অনুসন্ধানে উন্মোচিত
সংবাদ দিগন্ত ||
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্তে অভিনব পরিকল্পনায় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছিল। ওইসব নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গী ছিল তৎকালীন তিন নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার একাংশ। তবে ওই সময়কার নির্বাচনব্যবস্থাকে ইসির কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি। অর্থাৎ তিনটি নির্বাচনে সর্বনাশ হয়েছিল প্রশাসনের হাতেই। গত তিনটি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।বিগত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা নির্বাচন কমিশনের সচিবরা আওয়ামী লীগের পক্ষে সব ধরনের কাজ করেছেন। তবে সময়স্বল্পতার কারণে প্রতিবেদনে নির্বাচনি অনিয়মে যুক্ত থাকা কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর কার কী ভূমিকা ছিল, তা বের করতে পারেনি কমিশন। আরো পড়ুন , নির্বাচন কমিশনে চলছে চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করা হয়। আর ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো অংশ না নেওয়ায় এটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে ডামি প্রার্থী দেওয়া হয়। গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সোমবার তদন্ত কমিশনের প্রধান হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন এ প্রতিবেদন জমা দেন। এ সময় কমিশনের সদস্য সাবেক সচিব শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, আইনজীবী ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আরো পড়ুন , মোবাইল অ্যাপে চালু হলো র্যাপিড পাস রিচার্জ সুবিধাপ্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে। এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার। তিনি আরও বলেন, দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল। কিছু করতে পারেনি। জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, সেজন্য যারা জড়িত ছিল, তাদের চেহারাগুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল, সেটা জানতে হবে। নির্বাচন-ডাকাতি আর কখনো ঘটতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের অধীনে ওই তিন নির্বাচন আয়োজন করা হয় এবং সবকটিতে নিরঙ্কুশভাবে দলটিকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত