প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিনিয়োগ সংকটে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি তলানিতে
সংবাদ দিগন্ত ||
টানা ছয় মাস ধরে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে আটকে থাকায় দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর শেষে এই প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬.৫৮ শতাংশে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রারও নিচে।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধীরগতি নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নতুন বিনিয়োগ না হলে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের চাহিদাও বাড়ে না। আরো পড়ুন , পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস তদন্তের মুখেবর্তমান ঋণ প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, দেশে নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণমূলক বিনিয়োগ খুবই সীমিত। বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর। ‘যত কম বিনিয়োগ হবে, বেকারত্ব তত বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শ্লথ হবে’ বলে মনে করেন তিনি।” গত নভেম্বরে এক লাখ ৭৭ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয় বেসরকারি খাতে। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে এ খাতের ঋণ ৬.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও গত মাস অক্টোবরে বসরকারি খাতে ঋণ প্রবদ্ধি ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৬.২৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির দায় নিষ্পত্তি ১৬ শতাংশের বেশি কমেছে। আরো পড়ুন , সোনার দামে ফের ঊর্ধ্বগতি, ভরি বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকাঅর্থনীতিবিদদের মতে, এটি নতুন বিনিয়োগ স্থবিরতারই একটি শক্ত প্রমাণ। ব্যাংকাররা বলছেন, উচ্চ সুদহার, দুর্বল চাহিদা ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে কেউ ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করবে না। বর্তমানে যে ‘মব কালচার’ তৈরি হয়েছে, তা মোটেও ব্যবসাবান্ধব নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশি-বিদেশি কোনো বিনিয়োগই আসবে না। ৫০ কোটি টাকার মেশিন এনে যদি তিন বছর ঠিকভাবে চালাতেই না পারি, তাহলে লোকসান কতটা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত