প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
ডেস্ক ||
পরনে কালো জ্যাকেট। মাথায় টুপি। আর হাতে হাতকড়া। ধীরগতিতে দুই সৈনিকের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। নিউইয়র্কে ধরে নিয়ে আসার পর গতকাল রবিবার বন্দি মাদুরোর কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। আটক হওয়ার পর এই প্রথম তাঁকে ওই ভিডিওতে কিছু বলতে শোনা গেল। তবে বেশি কথা নয়। পাঁচটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন, বলেছেন—‘গুড নাইট, হ্যাপি নিউ ইয়ার!’গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দেশটির রাজধানী কারাকাসে নিজেদের প্রাসাদের শোয়ার ঘর থেকে তুলে নেওয়া হয় নিউইয়র্কে। সেখানেই একটি বন্দিশিবিরে রেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে এভাবে ধরে আনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে বিভিন্ন দেশে। অবিলম্বে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছে রাশিয়া।একই দাবি জানিয়েছে চীনও। আর ভারত বলেছে, তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে আসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট—আদালতের নির্দেশ : ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশটির আদালত এমন আদেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, মাদুরো তাঁর দায়িত্ব পালনে সাময়িকভাবে অক্ষম অবস্থায় রয়েছেন। রদ্রিগুয়েজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব দায়িত্ব পালন করবেন। ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের সাময়িক বা স্থায়ী অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যা চায় রদ্রিগুয়েজ যদি তা মেনে নেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা দখল করবে না বলে আগেই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর দেশ কখনোই কোনো দেশের উপনিবেশ হবে না। তিনি বিশ্বকে সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যা ঘটেছে, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে তা ঘটতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে বেআইনি কর্মকাণ্ড ও শক্তির অপব্যবহার বলে বর্ণনা করেন। মাদুরোকে আটকের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার জনগণকে ধৈর্য ধরার আহবান জানিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার মানুষ ধৈর্যশীল। আমরা শান্তি ও ধৈর্যের মধ্য দিয়েই আমাদের সামনের পথ খুঁজে নেব।’মাদুরোর নিরাপত্তা দলের ‘বড় অংশ’ নিহত হয়েছে— ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী : প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো বলেছেন, মার্কিন অভিযানে নিকোলা মাদুরো আটক হওয়ার সময় তাঁর নিরাপত্তা দলের সদস্যদের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছে। তবে কতজন নিহত হয়েছে, সে কথা উল্লেখ করেননি তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভাইস প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে।ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না যুক্তরাষ্ট্র— মার্কো রুবিও : যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নয় বরং মাদক পাচার সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালানোর একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা বলেছেন। গতকাল এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়নি। কারণ, এটি কোনো আগ্রাসন ছিল না। মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অবশিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যদি সেই নেতারা ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা (ভেনেজুয়েলার নেতারা) কী করেন তার ওপর ভিত্তি করে আমরা বিবেচনা করব। দেখব, তাঁরা কী করেন।’ রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পুনর্গঠনে জড়িয়ে পড়তে চায় না। তিনি উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সবকিছুকে লিবিয়া, সবকিছুকে ইরাক, সবকিছুকে আফগানিস্তান মনে করেন—যা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশে হস্তক্ষেপের উদাহরণ। রুবিও বলেন, “এটি মধ্যপ্রাচ্য নয় এবং এখানে আমাদের মিশন অনেক ভিন্ন। ভেনেজুয়েলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সব বিকল্প রাখবে’ বলেও মন্তব্য করেন।”যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, তা না পেলে ভেনেজুয়েলায় আবার হামলা— মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী : ভেনেজুয়েলায় আবার হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে যা চায়, তা না পেলে আবার হামলা চালানো হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর। হেগসেথ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো অঞ্চলে রয়েছে এবং তারা যা চায় তা না পেলে ভেনেজুয়েলায় আরো একবার হামলা চালানো হতে পারে।জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ : মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে বলে মনে করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সেই উত্তেজনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের শনিবারের সামরিক অভিযান এবং মহাসচিবের আশঙ্কা, এ অভিযানের জেরে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।স্ত্রীসহ মাদুরোর মুক্তি দাবি চীনের : মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর তাৎক্ষণিক মুক্তি চেয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহবান জানাচ্ছে চীন। সেই সঙ্গে অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি প্রদান, ভেনেজুয়েলার সরকারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ইস্যুগুলো সমাধানের দাবি জানানো হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, সে সময় থেকেই নিকোলাস মাদুরোকে নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করতেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।আরও পড়ুন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধান গ্রেফতার: নরিয়েগা, সাদ্দাম, হার্নান্দেজ ও মাদুরোপরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত :এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নয়াদিল্লি আরো বলেছে, ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং সব পক্ষকে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার আহবান জানিয়েছে।তেলের জন্যই এ রক্তপাত : মার্কিন কংগ্রেসম্যানযুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হয় ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তারপর তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হয়। আর সবকিছুই হচ্ছে মাদুরোর নির্দেশে। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন বিচারব্যবস্থার সামনে ফেলতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন কংগ্রেসম্যান জ্যাক অচিনক্লজ বলেছেন, ‘তেলের জন্যই এ রক্তপাত। এর সঙ্গে মাদক পাচারের কোনো সম্পর্ক নেই। মাদকের বেশির ভাগই ইউরোপের দেশগুলোয় যায়। আর কোকেন সেই মাদক নয়, যেটি মার্কিনিদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। বরং সেটা ফেন্টানিল, যা চীন থেকে আসে।’ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য জ্যাক অচিনক্লজ বলেন, ‘এই বিষয়টা বরাবরই আলোচনায় ছিল, বিশ্বের বুকে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলায়।’ তিনি বলেন, ‘শেভরনের (যুক্তরাষ্ট্রের তেল কম্পানি) কাছে ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ কাজে লাগানোর চুক্তি ও অর্থ বিভাগের অনুমতি রয়েছে। এই প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) মার্কিন তেল কম্পানিগুলোর প্রধানদের কাছে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন।’প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত : মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে আনার ঘটনায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়েছে। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে শ খানেক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও। লস অ্যাঞ্জেলেস ও লাস ভেগাসে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বামঘেঁষা স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বকে আরো নিরাপদ করবে না। বরং এটি উল্টো ফল দেবে। এটি স্রেফ নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ। এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপের সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, যা এক ভয়াবহ কলঙ্ক রেখে গেছে।আরও পড়ুন, নববর্ষের বৈশ্বিক উৎসব: আশা, আনন্দ ও আধুনিক প্রযুক্তির মিলনযেভাবে ‘অ্যাবসলিউট রিজলভ’ সম্পন্ন হলো : ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানের বিশদ বিবরণ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছে। ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-এ-লাগো রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ, স্থল, মহাকাশ, সামুদ্রিক ও গোয়েন্দা সদস্যদের কয়েক মাস ধরে করা সমন্বিত পরিকল্পনার ফল এই অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় ‘অ্যাবসলিউট রিজলভ’ অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন। এই অভিযানে পশ্চিম গোলার্ধের পৃথক ২০টি মার্কিন ঘাঁটি থেকে ১৫০টি সামরিক আকাশযান ভেনেজুয়েলার দিকে রওনা হয়। হেলিকপ্টারে করে একটি বিশেষ সামরিক উদ্ধারকারী দল ও স্থল বাহিনীর একটি দল ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সময় ৩ জানুয়ারি (শনিবার) রাত ২টা ১ মিনিটে দেশটির নেতা ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করতে মাদুরোর কম্পাউন্ডে হাজির হয়। মাদুরোর কম্পাউন্ডে হাজির হয়ে তারা এলাকাটিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ সময় মাথার ওপর আকাশে থাকা মার্কিন বাহিনীর এফ-২২, এফ-৩৫, এফ/এ-১৮, ইএ-১৮, ই-২ আকাশযান এবং বি-১ বোমারু বিমান নিচের বাহিনীগুলোকে সুরক্ষা দিচ্ছিল।জেনারেল কেইন জানান, মার্কিন বাহিনী ‘দুর্বার শক্তি প্রয়োগ করে’ জবাব দেয় আর অভিযান শেষে সব হেলিকপ্টার ফিরে আসতে সক্ষম হয়। তিনি জানান, নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী ফ্লোরেসকে হেলিকপ্টারে তুলে উড়িয়ে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টা ২৯ মিনিটে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন নৌবাহিনীর উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ইও জিমায় তোলা হয়। এই জাহাজটি তখন ভেনেজুয়েলা উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরের অজ্ঞাত একটি স্থানে অবস্থান করছিল। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকারের ভেতরের এক সিআইএ চরের সাহায্যে নিকোলাস মাদুরোর অবস্থান খুঁজে পায় যুক্তরাষ্ট্র। আর এর ফলেই মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী ডেল্টা ফোর্স মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করতে সক্ষম হয়। কেইন জানান, যুক্তরাষ্ট্র সময় শনিবার রাতে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে অবতরণ করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর তাঁকে সরাসরি ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) নিয়ে যাওয়া হয়। এই কারাগারটি জেফরি এপস্টাইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং বর্তমান সময়ের আলোচিত র্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসের মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখার জন্য পরিচিত। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি, সিবিএস, এপি