প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
আরব্য আকাশে বছরের শেষ প্রান্তে উরসিড উল্কাবৃষ্টি
ডেস্ক ||
বছরের শেষ প্রান্তে এসে আরব্য আকাশের ক্যানভাসে শুরু হতে যাচ্ছে এক মায়াবী আলোর খেলা। হাড়কাঁপানো শীতের আগমনে যখন প্রকৃতি জড়োসড়ো, ঠিক তখনই মহাকাশপ্রেমীদের জন্য উষ্ণতা নিয়ে হাজির হয়েছে উরসিড উল্কাবৃষ্টি। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত চলবে এই মহাজাগতিক উৎসব। মূলত ৮-পি/টাটল নামের একটি ধুমকেতুর ফেলে যাওয়া ধুলিকণা ও পাথরের অবশিষ্টাংশ যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সজোরে আছড়ে পড়ে, তখনই সৃষ্টি হয় এমন অসাধারণ আলোকছটা।জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির প্রধান মাজেদ আবু জাহরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর ১৭ থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকে। আকাশের বুক চিরে বাতাসের সাথে ঘর্ষণে প্রজ্বলিত এই উল্কাগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার উঁচুতে জ্বলে ওঠে, যা দেখতে অনেকটা দ্রুতগামী আলোর তীরের মতো মনে হয়। উত্তর আকাশে ধ্রুবতারা সংলগ্ন 'উর্সা মাইনর' বা লঘু সপ্তর্ষি মন্ডলীর দিক থেকে এই উল্কাগুলো ছুটে আসতে দেখা যায় বলে একে উরসিড উল্কাবৃষ্টি বলা হয়। রাত যত গভীর হবে এবং আকাশের উত্তর প্রান্তে এই নির্দিষ্ট বিন্দুটি যত উপরে উঠবে, উল্কা দেখার সুযোগ তত বাড়বে।আরও পড়ুন, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে যেভাবে আয় করবেনসাধারণত ঘণ্টায় পাঁচ থেকে দশটি উল্কা দেখা গেলেও এবারের বিশেষত্ব হলো চাঁদের অনুপস্থিতি। আকাশজুড়ে চাঁদের তীব্র আলো না থাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে এই ক্ষীণ আলোর রেখাগুলো আরও স্পষ্টভাবে ধরা দেবে দুচোখে। প্রায় ১০০ বছর আগে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন যে ডিসেম্বরের এই শেষ দিনগুলোতে আকাশ থেকে খসে পড়া তারাগুলো আসলে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং মহাকাশের এক সুশৃঙ্খল এবং বার্ষিক আয়োজন। যারা যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে একটু নিরিবিলিতে প্রকৃতির এই বিদায়ী উপহার দেখতে চান, তাদের জন্য এই ভোরের আকাশ হতে পারে বছরের সেরা অভিজ্ঞতা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত