প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রামে কফিন মিছিল ও বিক্ষোভ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি
মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ||
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কফিন মিছিল, বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচি থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগসহ একাধিক দাবি উত্থাপন করা হয়।‘জুলাই ঐক্য, চট্টগ্রাম’, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মুসল্লিরা। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো প্রতীকী কফিন নিয়ে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালখান মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তারা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায় নির্ধারণ করে অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। বক্তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন এবং কোনো ধরনের উসকানিতে না জড়ানোর আহ্বান জানান।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইবনে হাসান জিয়াদ বলেন, ওসমান হাদি হত্যার দায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে এড়ানো যাবে না। হত্যাকারীরা যেখানেই থাকুক, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সংগঠনটির সদস্যসচিব তৌসিফ ইমরোজ বলেন, জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ‘মব’ আখ্যা দিয়ে যারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।আরও পড়ুন, শহীদ হাদির রক্ত বৃথা গেলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ব্যর্থ হবেগণঅধিকার পরিষদের নেতা জসীম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই সরকারই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন যুবশক্তির নেতা টিপু সুলতান, জুলাই আন্দোলনে নিহত মাহবুবুর রহমানের ভাই মঞ্জুর আলমসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এদিকে জুমার নামাজের পর নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ এলাকা থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পৃথক একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি দেওয়ানহাট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত সমাবেশে শিবিরের নগর নেতারা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দেন।আরও পড়ুন, নওগাঁয় আওয়ামী লীগের ১৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তারবক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটলেও তার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য এখনো বহাল রয়েছে। ওসমান হাদির শাহাদাত সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয় শরিফ ওসমান হাদিকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। একই সময় নগরের একাধিক স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত