প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে
সংবাদ দিগন্ত ||
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো আনুকূল্য চাই না, কিন্তু কোনো দলকে যদি কমিশন আনুকূল্য দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবস উপলক্ষে যুব ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে সব ষড়যন্ত্র চলে যাবে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান, তারা যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করে।শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা আমাদের দলীয় বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনীতির নতুন মোড়ক উন্মোচন হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে তা জনগণ প্রতিরোধ করে নিঃশেষ করে দেবে।জামায়াত আমির বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে এবং দেশের সব মানুষ একসঙ্গে স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর শাসকগোষ্ঠী জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে দেখেছিল এবং দেশের বাকি মানুষকে দাসে পরিণত করা হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস করে মৌলিক মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং রক্ষী বাহিনীর নামে একটি দমনমূলক বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল।তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। কিন্তু অতীতের বস্তাপচা সব রাজনীতিকে আমরা পায়ের নিচে চেপে সমাপ্তি টানতে চাই। নতুন বাংলাদেশের নতুন ধারায় রাজনীতি শুরু করতে চাই।আরো পড়ুন: অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি পায়ের তলে ফেলতে চাই: জামায়াত আমিরযুব ম্যারাথন শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমাদের স্বাধীনতা নয়, বরং পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ভারত আমাদের সহযোগিতা করেছিল। তারা আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে আওয়ামী বাকশালীদের মাধ্যমে দেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল। কিন্তু আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে সে অবস্থার অবসান হয়েছে। তিনি বলেন, একাত্তরে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ ভারতীয় বাহিনীর কাছে ছিল বিবেচনায় প্রতিবেশী দেশটি ১৬ ডিসেম্বরকে তাদের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে। এর মাধ্যমে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছে।অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সে ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনী আমাদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের ভুলের স্বীকৃতি দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী মনোভাব ও তাদের এদেশীয় এজেন্টদের কারণে আমরা বিজয়ের স্বাদ পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারিনি এবং আমাদের স্বাধীনতাও সুরক্ষিত হয়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, পাক বাহিনী সেদিন আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ না করে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা জগজিৎ সিং আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী ছিলেন অনুপস্থিত।কেন অনুপস্থিত ছিলেন সে প্রশ্নের আজও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাই পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ ভারতীয় বাহিনীর কাছে বিবেচনায় প্রতিবেশী দেশটি ১৬ ডিসেম্বরকে তাদের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে। এর মাধ্যমে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছে। তিনি বলেন, ভারতের এমন ন্যক্কারজনক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদসহ সব মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। তবে স্বাধীনতা শুধু একটি মাত্র ভূখ- অর্জন নয়, বরং প্রকৃত বিজয় বা স্বাধীনতা হচ্ছে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকারের স্বাধীনতা।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের সভাপতি ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন ও ড. আব্দুল মান্নান, ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, ঢাকা-১৭ আসনের ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, ঢাকা-১৬ আসনের কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা-৬ আসনের জয়নাল আবেদীন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, নাসির উদ্দীন ও জামাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নো’মান আহমেদী, যুব বিভাগের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি মাঈনুদ্দীন প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত