প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
নির্বাচন বানচালের চেষ্টা ব্যর্থ হবে, কোনো আশঙ্কা নেই
সংবাদ দিগন্ত ||
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই এবং নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। গতকাল রবিবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় নির্বাচন সময়মতো হবে বলেও জানান তিনি। তবে আগামী দিনেও চোরাগুপ্তা হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই কমিশনার।এ জন্য সম্ভাব্য হামলার চক্রান্তকারীদের যেন কঠোর হস্তে দমন করা হয় সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই কমিশনার।গতকাল বিকেল ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী ঘটনায় ‘মাথার ওপর বাজ পড়ে গেছে’ বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উদ্দেশে মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৈঠকে ধারণ করা এক ভিডিও থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।বৈঠকে সিইসি বলেন, ‘শুক্রবার যে ঘটনা ঘটে গেল, এটা তো আমার মাথার ওপর বাজ পড়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। আমি আগের দিন তফসিল ঘোষণা করলাম, পরের দিনই কিন্তু এই ঘটনাটা ঘটে গেল। আমি মনে করি এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘চোরাগুপ্তা হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা এগুলোকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে বা হামলাকারীদের যেন কঠোর হস্তে দমন করা হয়। ওই ধরনের ঘটনা ঘটলে অপরাধীরা যেন ধরা পড়ে সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। ইসির মেসেজ ভেরি ক্লিয়ার—নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। নির্বাচন সময়মতো হবে এবং নির্বাচনের পথে এ ধরনের বাধাগুলো তৈরি করার চেষ্টা করলে দমন করা হবে। যারাই এই নির্বাচনকে বানচাল করা, প্রতিহত করা বা ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো চেষ্টা করবে, তারা ব্যর্থ হবে এবং যেখানে যতটুকু দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন, সব বাহিনী ততটাই দৃঢ় হবে। তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক একটা ঘটনা সবাইকে উদ্বিগ্ন করে। শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা চোরাগুপ্তা হামলা নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা বিস্তারিত বলছি না। এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘ডেভিল হান্ট’ শুরু হওয়ার পর থেকে যেসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের একটা বড় সংখ্যা এরই মধ্যে জামিন পেয়ে গেছে। তারা সমাজে বিরাজ করছে। এটা নিয়ে কী করণীয় সেটা নিয়ে কথা হয়েছে বৈঠকে।আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘এই চোরাগুপ্তা হামলাটা এটা কি কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ? নাকি এটা কোনো একটা আইসোলেটেড ইভেন্ট? সেখানে কোনো ব্যর্থতা আছে কি না এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এক ধরনের মূল্যায়ন হয়েছে। দুটি উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো প্রচেষ্টাও হয়েছে। আমরা সবগুলো বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি। সরকার তথা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যেসব কার্যক্রম এ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে যেসব জায়গায় আরো অধিকতর কাজ করার অবকাশ আছে, সেগুলো নিয়েও কথা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ওসামান হাদির ওপর হামলা হয়েছে। এতে অনেক প্রার্থীর মধ্যে ভীতি সঞ্চার তৈরি হয়েছে। এটা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘যারা এই কাজটা করতে চাচ্ছে, তারা চাচ্ছে একটা ভীতির পরিবেশ তৈরি হোক। আমাদের সেটাই বন্ধ করার জন্য আজকের (রবিবার) মিটিং। এটা সাকসেসফুল হতে দেওয়া হবে না।’বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে অধিক সংখ্যায় চেকপোস্ট বসানোর বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান ইসি সানাউল্লাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিক সংখ্যায় চেকপয়েন্ট বসিয়ে সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম ও চলাচল সীমিত করা, বাইরে ঘুরে বেড়ানো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আইজিপি, পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র ও আইনসচিব ও এনটিএমসি প্রতিনিধিসহ আইন-শৃঙ্খলাসংশ্লিষ্ট অনেকেই অংশ নেন।সিইসি, ইসি, নির্বাচনী কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সার্বিক নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি : প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনার, বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নির্বাচনী কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাবির্ক নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত শনিবার রাতে ইসি সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে তিনটি চিঠি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনারের সার্বিক নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনাররা এবং সিনিয়র সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিশেষ নিরাপত্তা বিধান প্রয়োজন। তাই তাঁদের অফিস যাতায়াতসহ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার নিমিত্ত পুলিশি নিরাপত্তা প্রদানের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো। সারা দেশে মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সুরক্ষা চেয়ে দেওয়া ইসির চিঠিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি জারির পর দুর্বৃত্তরা কয়েকটি নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ প্রেক্ষাপট সারা দেশে মাঠপর্যয়ের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিস এবং উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসসমূহে নির্বাচনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, নির্বাচনী মালামাল, যন্ত্রপাতি সংরক্ষিত রয়েছে বিধায় ওই অফিসসমূহে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ নাম ও নির্বাচনী মালামালের সুরক্ষাসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত অত্যাবশ্যক মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।আরেক চিঠিতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রিটার্নিং অফিসারদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য গানম্যান নিয়োগের অনুরোধ করে নির্বাচন কমিশন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত