প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
বিচার দাবিতে জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা
ডেস্ক ||
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা ঝুলিয়েছেন জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামসহ কয়েকজন সদস্য ও কিছু শিক্ষার্থী। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ভবনটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এদিকে, প্রশাসনিক ভবন বন্ধ থাকায় আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এটা আসলে খুবই বিব্রতকর। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) নতুন হলগুলোতে গ্যাস সংযোগের উদ্বোধন রয়েছে। অফিস কার্যক্রম, ফাইল মুভমেন্ট, আর্থিক লেনদেন সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত। সামনে ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান।সব মিলিয়ে পুরো কার্যক্রমেই এর প্রভাব পড়বে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, ‘প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে, এটা আমি রাতে বাসায় ফিরে জানতে পারি। বিষয়টি নিয়ে আগে কিছুই জানা ছিল না। ১৫ ডিসেম্বর অফিস খোলা না থাকলে তা আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’ এদিকে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের আগে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস যথাযথভাবে পালনের পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে শুক্রবার বিকেলে আমরা প্রতিবাদ মিছিল করি। মিছিল শেষে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জাকসুর কয়েকজন সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিই।’তিনি জানান, জাকসুর অধিকাংশ সদস্যের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় বিজয় দিবসের আয়োজন বিঘ্নিত হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ মর্যাদায় দিবস পালন করবে। প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় অনুষ্ঠান আয়োজন ব্যাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’তবে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন জাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় থাকার সময় জানতে পারি, ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি কর্মসূচি রয়েছে। পরে জাকসুর পক্ষ থেকে আমি সংহতি জানাই। সন্ধ্যায় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে পারি যে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা তালা দিয়েছে, সে বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জাকসুর ভিপি হয়েও যদি না জানি, তাহলে এটা জাকসুর সিদ্ধান্ত বলা যায় না। জাকসুর পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি হলে সকল সদস্যেরই তা জানা উচিত। দুই-তিনজন সদস্য গিয়ে তালা দেওয়ার পর জাকসুর নাম ব্যবহার করলে সেটি জাকসুকে ছোট করা হয়।’এদিকে, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেন জাকসুর নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে হামলায় যেসব শিক্ষক-কর্মচারী সরাসরি জড়িত ছিলেন, তাদের বিচার নিয়ে তাদের আন্দোলন ও সংগ্রাম চলমান ছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষকদের কোনো বিচারের সুরাহা প্রশাসন দিতে পারেনি। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই বিচার সম্পন্ন হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নেই। এসময় জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শরিফ ওসমান বিন হাদি ভাইয়ের মতো ঘটনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটবে না কিংবা বাংলাদেশের অন্য কোনো জায়গায় ঘটবে না-এর কোনো গ্যারান্টি আছে? সেই আশঙ্কার জায়গা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গত জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি রামদা, আগ্নেয়াস্ত্র, পেট্রলবোমা নিয়ে যেসব শিক্ষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন দিয়েছেন, তাদের বিচারের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য একটাই-বিচার কার্যক্রম যেন কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা না করে বাস্তবায়ন করা হয়। শিক্ষকদের বিচারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের বরাবরই উদাসীনতা দেখা গেছে। এমনকি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, সেই সাক্ষ্য প্রদানকারীদের তালিকা পরদিনই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে গেছে। এ অবস্থায় তাদের দাবির সঙ্গে একতাবদ্ধভাবে পাশে না দাঁড়িয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম যে বিবৃতি দিয়েছে এবং তাদের ভিলেন বানানোর চেষ্টা করেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত