প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে ধনীদের জন্য চালু ‘ট্রাম্প গোল্ড ভিসা’
জুলিয়া জাহান, News Editor ||
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভে আগ্রহী ধনী ব্যক্তিদের জন্য ‘ট্রাম্প গোল্ড ভিসা’ নামের ভিসা কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত মঙ্গলবার প্রথমে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ তথ্য জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালেও ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন তিনি। মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “যোগ্য এবং যাচাইকৃত আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য দারুন খবর! ট্রাম্প গোল্ড ভিসা চালু হয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের জন্য সরাসরি পথ হিসেবে কাজ করবে এই ভিসা। আমাদের মহান মার্কিন কোম্পানিগুলো অবশ্যই তাদের মেধাবী কর্মীদের ধরে রাখতে পারবে।”মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এই নীতি সম্পর্কে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে ২ লাখ ৮১ হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসতেন। তারা গড়ে ৬৬ হাজার ডলার উপার্জন করতেন এবং তাদের সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা পাঁচ গুণ বেশি ছিল। আমরা সবচেয়ে নিম্ন স্তরের লোকদের (আয়ের দিক থেকে) নিচ্ছিলাম, যা একজন গড় আমেরিকান থেকে কম। এটি অযৌক্তিক ছিল।’ লুটনিক আরও বলেন, ‘আমরা এটা করা বন্ধ করে দেব। আমরা কেবল অসাধারণ এবং সর্বোচ্চ স্তরের ব্যক্তিদের নেব, যারা আমেরিকায় চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করার পরিবর্তে ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান তৈরি করবে।’ তিনি দাবি করেন, এই প্রোগ্রাম মার্কিন ট্রেজারির জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আনবে।‘গোল্ড কার্ড’ ভিসার আবেদনকারীদের জন্য একটি কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া থাকবে, যার খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১৫ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। এই ভিসার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারী যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন, তবে তাকে বিশ্বব্যাপী তার উপার্জনের ওপর মার্কিন কর দিতে হবে। এই শর্তের কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অনেক আবেদনকারী আগ্রহ হারাতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই ভিসা পেতে হলে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রথমে ট্রাম্পকার্ড ডট গভ নামে একটি ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে। সেখানে ‘অ্যাপ্লাই নাউ’ বাটনে চাপ দিলে আসবে আবেদনের ফরম। সেই ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার সময় ফি হিসেবে দিতে হবে ১৫ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ লাখ ২১ হাজার ৯৬৪ টাকা)। ভিসা প্রসেসিং বাবদ এই ফি নেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি)।আরও পড়ুন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে : মির্জা ফখরুলআবেদনপত্র যাচাইয়ের কাজ শেষ হলে তা আবেদনকারীকে জানানো হবে এবং এরপর ভিসার জন্য ‘চাঁদা’ হিসেবে আবেদনকারীকে দিতে হবে ১০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কোটি ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০০ টাকা)। ট্রাম্পকার্ড ডট গভ ওয়েবসাইটে এই ‘চাঁদা’-কে উল্লেখ করা হয়েছে উপহার হিসেবে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, ট্রাম্প গোল্ড ভিসার মর্যাদা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের মতো। গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তিরা যেমন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের অনুমোদনপ্রাপ্ত— এই ভিসাধারীরাও তেমন সুবিধা পাবেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ট্রাম্প বলেন, “মূলত এই ভিসা একপ্রকার গ্রিন কার্ড, তবে এটি (প্রচলিত গ্রিন কার্ডের চেয়ে) অনেক ভালো, শক্তিশালী এবং নাগরিকত্ব লাভের জন্য আদর্শ পথ।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত